রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিএনপি রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে যে দ্বিচারিতা করেছে, আমরা সেটা জাতির সামনে আনতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে একটি “জুলাই সনদ” করেছি। সেটির ওপর একটি আদেশ জারি হয়েছে, সেই আদেশের ওপর গণভোটও হয়েছে। কিন্তু সেই গণভোটের রায় বা জনগণের রায় বিএনপি এখনো বাস্তবায়ন করেনি।’
দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ আজ নির্বাচন কমিশন থেকে দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। এরপর সাংবাদিকদের ব্রিফ করার সময় তিনি এ অভিযোগ তোলেন।তিনি বলেন, গণভোটের রায় যদি বাস্তবায়িত হতো, তবে আজকের এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সঠিক গণতন্ত্রের প্রতিফলন ঘটত।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘রাষ্ট্রের ধাপে ধাপে মানুষের অধিকার যে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, আমরা সেটা দূর করতে চাই। এ জন্যই আমরা সংস্কারের কথা বলেছি। আমরা বারবার বলে আসছি, পার্লামেন্টেও (সংসদ) বলেছি এবং পার্লামেন্টের বাইরে আন্দোলন ও কর্মসূচির মাধ্যমেও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। কিন্তু কেন সরকার সেদিকে যাচ্ছে না, তা আমরা জানি না।’
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, ‘যদি আজ গণভোটের রায় বাস্তবায়িত হতো, তাহলে ৭০ অনুচ্ছেদটি সংস্কারের আওতায় চলে আসত। এখন যারা ভোটার অর্থাৎ সংসদ সদস্যরা, তারা তো স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন না। তাহলে একদিকে আপনি তাদের ভোটাধিকার দিয়েছেন, আবার অন্যদিকে সেই অধিকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে রেখেছেন।’
উল্লেখ্য, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে কোনো সংসদ সদস্যকে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখার বিধান রয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য তার দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যায়।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘রাষ্ট্রের প্রধান ব্যক্তি এবং পদমর্যাদাপূর্ণ অভিভাবকত্বের জায়গা হলো রাষ্ট্রপতির পদ। এই পদেও যদি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন হয়ে যায়, তাহলে আমরা যে গণতন্ত্র চর্চার কথা বলি, সেটা আর হচ্ছে না। এ জন্যই আমরা গণতান্ত্রিক ধারাটাকে ফিরিয়ে আনতে চাই।’
জয় নিশ্চিত না জেনেও জামায়াত কেন রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গত পরশু দিন দলের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে আমরা (জামায়াত) নির্বাচনে অংশ নেব। এখানে জয়-পরাজয় কোনো বিষয় নয়। আমরা মূলত একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সামনে আনতে চাই।’
সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজি, জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা মুফতি ফখরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়সাল প্রমুখ।

















