চিকিৎসা খাতে আগামী পাঁচ বছরে জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার কার্যক্রম শুরুর সময়ে একটি মহল রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। শনিবার (৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছেন। জনগণের কল্যাণ ও দেশের উন্নয়নে সরকারের কর্মকাণ্ডে দায়বদ্ধতা ও অঙ্গীকার স্পষ্ট হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, যখন দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে, তখনই একটি মহল আবার দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা যখন একটি সংসদীয় পদ্ধতিতে সরকারে গিয়ে সংসদের মধ্য দিয়ে সমস্যার সমাধান করতে চাই, তখন সেই মহলটি রাজপথে নেমে দেশকে আবার একটি অস্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।”
দেশের অতীত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশ যখন এগিয়ে যেতে শুরু করে, তখনই একটি মহল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সেটিকে পেছনে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তাই দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
চিকিৎসকদের জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, চিকিৎসকরা দেশের উচ্চশিক্ষিত ও গুরুত্বপূর্ণ একটি শ্রেণি। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তাদের দায়িত্ব রয়েছে। ফলে স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে তাদেরও ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, “দেশে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন স্থিতিশীলতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যে বাংলাদেশে উন্নয়ন, মানবিক মর্যাদা ও সাম্যের ভিত্তিতে একটি নতুন রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে।”
মির্জা ফখরুল বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সামনে রাখার কথাও বলেন তিনি।
চিকিৎসা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে অতীতের তুলনায় চিকিৎসা খাতে বড় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে এই খাতে বরাদ্দ জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশে উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ড্যাবের প্রতিষ্ঠার পর থেকে চিকিৎসকদের বিভিন্ন অবদানের প্রশংসা করেন মির্জা ফখরুল। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক আন্দোলন ও দেশ গঠনের বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসকেরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
করোনাভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণের সময় চিকিৎসকেরা জীবন ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিয়েছেন বলেও তিনি জানান। মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আসার সময় চিকিৎসকেরা চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করে দীর্ঘদিন সেবা দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন বিএনপি মহাসচিব।
দলের দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনে চিকিৎসকদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। গত ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে রাজনৈতিক আন্দোলনে যারা ভূমিকা রেখেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান মির্জা ফখরুল। একই সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের চিকিৎসায় যুক্ত চিকিৎসকদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি।
তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ সময়ের স্বৈরশাসনের পর দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী জনগণের কল্যাণ ও দেশের কল্যাণে কাজ শুরু করেছেন। নির্বাচনের পর তাঁর কর্মকাণ্ডেও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং দেশের উন্নয়নের প্রত্যয় স্পষ্ট হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আই হ্যাভ এ প্ল্যান” বলে যে পরিকল্পনার কথা তারেক রহমান জানিয়েছিলেন, নির্বাচনের পর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশ ধ্বংস হওয়ার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব বিএনপির ওপর পড়েছিল। ১৯৭৫ সালের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়া দেশ গড়ে তুলেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এবার সেই দায়িত্ব তারেক রহমানের ওপর এসে পড়েছে বলেও উল্লেখ করেন বিএনপি মহাসচিব।
এর আগে শনিবার সকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলে ড্যাবের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. সাখাওয়াত হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
















