স্পোর্টস ডেস্ক: ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অসন্তোষ আরও তীব্র হয়েছে। ইউরোপীয় ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক সূত্রের দাবি, ইনফান্তিনো পদ না ছাড়লে ফিফার সঙ্গে সহযোগিতা না করার পথে হাঁটতে পারেন তার বিরোধীরা।
বিরোধীদের কেউ কেউ স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইনফান্তিনো দায়িত্বে থাকলে আগের অবস্থায় ফেরার কোনো সুযোগ নেই। ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মালিকানার অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা বাতিল হওয়ার পর থেকেই এই বিরোধ আরও জোরালো হয়েছে।
যদিও কী ধরনের অসহযোগিতা করা হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। তবে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, ফিফার বিভিন্ন বৈঠকে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
এরই মধ্যে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। অন্যদিকে ওয়েলস প্রকাশ্যে ইনফান্তিনোর চতুর্থ মেয়াদের প্রার্থিতার প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছে। একই পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইংল্যান্ডের ফুটবল সংস্থাও।
আগামী মার্চে ইনফান্তিনো শেষবারের মতো প্রেসিডেন্ট পদে পুনর্নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা। জিততে হলে তাকে ফিফার ২১১ সদস্য দেশের অন্তত ১০৬টির সমর্থন পেতে হবে।
সূত্র জানিয়েছে, স্কটল্যান্ডের ফুটবল সংস্থাও ইনফান্তিনোর বিষয়ে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থার অবস্থানের সঙ্গেই রয়েছে এবং তার নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখছে না।
ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে এর আগেই ইউরোপ, উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থাগুলো প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিল। যৌথ বিবৃতিতে তার পরিকল্পনার সমালোচনাও করা হয়।
এদিকে সার্বিয়া, সুইডেন ও ফিনল্যান্ডও সমর্থন প্রত্যাহার করায় ইনফান্তিনোর ওপর চাপ আরও বেড়েছে। তবে মরক্কো, কাতার, লেবানন, কুয়েত ও শ্রীলংকাসহ কয়েকটি দেশ এখনো তার নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
বর্তমানে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থার ভোট ৫৫টি, আফ্রিকার ৫৪টি, এশিয়ার ৪৬টি, উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ৩৫টি, ওশেনিয়ার ১১টি এবং দক্ষিণ আমেরিকার ১০টি।
এশিয়ার ফুটবল সংস্থা জানিয়েছে, তারা ইউরোপ এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের সংস্থাগুলোর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছে। তবে আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ওশেনিয়ার পক্ষ থেকে এখনো ইনফান্তিনোর পরিকল্পনার প্রকাশ্য সমালোচনা করা হয়নি।
তবে ফিফা কাউন্সিল চাইলে জরুরি বৈঠক ডেকে ইনফান্তিনোর পদত্যাগের উদ্যোগ নিতে পারে। ৩৭ সদস্যের কাউন্সিলের অন্তত ১৯ জন এ ধরনের বৈঠকের দাবি জানালে দুই সপ্তাহের মধ্যেই তা আয়োজন করতে হবে।
ইনফান্তিনো ও ফিফা বিশ্বকাপসহ বড় প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা করেছিলেন। সেখানে বাইরের বিনিয়োগকারীরা সংখ্যালঘু অংশীদার হিসেবে বিনিয়োগের সুযোগ পেতেন।
ফিফা জানিয়েছিল, নতুন প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে বাইরের পক্ষকে নিয়ন্ত্রণহীন সংখ্যালঘু বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হবে।
এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা ইনফান্তিনোকে পাঠানো এক চিঠিতে জানায়, তারা আইনি ব্যবস্থা, সালিশি কার্যক্রম কিংবা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।
এ ছাড়া বিনিয়োগ পরিকল্পনা-সংক্রান্ত সব নথি সংরক্ষণেরও দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে লিখিত চিঠিপত্র, খুদে বার্তা, বৈঠকের নথি এবং সংশ্লিষ্ট সব যোগাযোগের তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থার সহসভাপতি লরা ম্যাকঅ্যালিস্টারের ভাষায়, এই আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা আসলে একটি স্পষ্ট বার্তা। তাঁর মতে, নতুন প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়ায় শাসনব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা প্রকাশ পেয়েছে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতি আর না তৈরি হয়, সে জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আরও দেশ ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করবে এবং আগামী বছর ফিফার নেতৃত্বে পরিবর্তন আসবে।
লরা ম্যাকঅ্যালিস্টার বলেন, একতরফা সিদ্ধান্তের কারণে বারবার সংকট সামাল দেওয়া সম্ভব নয়, ফুটবলের স্বার্থেই এখন নেতৃত্বে পরিবর্তন প্রয়োজন।



















