• Home
  • খেলা
  • পাঁচ বছর পর কোচিংয়ে ফিরলেন জিদান, দায়িত্ব নিলেন ফ্রান্সের
Image

পাঁচ বছর পর কোচিংয়ে ফিরলেন জিদান, দায়িত্ব নিলেন ফ্রান্সের

স্পোর্টস ডেস্ক: গুঞ্জন আর অপেক্ষার অবসান হয়েছে। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্রান্স জাতীয় দলের ডাগআউটে বসছেন সেই মানুষটি, যিনি একসময় মাঠে দাঁড়িয়ে পুরো একটি জাতির স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন। খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ জিতেছেন, কোচ হিসেবে ইউরোপ শাসন করেছেন। এবার তার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ- নিজের দেশ ফ্রান্সকে আবারও শিখরে পৌঁছে দেওয়া।

অবশেষে জিনেদিন জিদান ফ্রান্স পুরুষ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ হয়েছেন। ৫৪ বছর বয়সী সাবেক ব্যালন ডি’অর জয়ী জিদান খেলোয়াড় হিসেবে ফ্রান্সের সর্বকালের অন্যতম সেরা কিংবদন্তি। তার নেতৃত্বেই ১৯৯৮ সালে ফিফা বিশ্বকাপ এবং ২০০০ সালে উয়েফা ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল লে ব্লুরা। অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে তিনি জিতেছেন একাধিক উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও লা লিগা শিরোপা।

দীর্ঘ এক দশক দায়িত্ব পালনের পর এবার দিদিয়ের দেশম সরে দাঁড়ানোয় সাবেক সতীর্থের জায়গায় দায়িত্ব নিয়ে জিদানের সামনে সুযোগ এসেছে আরেকটি ইতিহাস গড়ার। খেলোয়াড় হিসেবে দেশের হয়ে শিরোপা জেতার পর এবার কোচ হিসেবেও ফ্রান্সকে সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে যেতে চান তিনি।

২০২৬ বিশ্বকাপে হতাশাজনকভাবে চতুর্থ স্থান অর্জনের পর এখন থেকেই শুরু হচ্ছে নতুন অধ্যায়ের প্রস্তুতি। সামনে সেপ্টেম্বরে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচ, আর আগামী বছর শুরু হবে ইউরো ২০২৮- এর বাছাই পর্ব।

তবে অসাধারণ সাফল্যের অধিকারী হলেও জিদান পাঁচ বছর কোনও দলের কোচ ছিলেন না। রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্বে দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি স্বেচ্ছায় ফুটবলের মূলধারার বাইরে ছিলেন। আর পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই মিডিয়ার আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে তিনি বরাবরই রহস্যময় একজন মানুষ।

তাই প্রশ্ন উঠেছে- ফ্রান্স জাতীয় দলে জিদান কী নতুনত্ব আনবেন? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছে ইএসপিএন। জিদানের কোচিং দর্শন কি জাতীয় দলে কার্যকর হবে? এই মুহূর্তে ফ্রান্সজুড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত প্রশ্ন এটিই।কয়েক সপ্তাহ আগে স্পেনের কাছে বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে হারের পর থেকেই সবাই অপেক্ষা করছিলেন জিদানের।

রিয়াল মাদ্রিদে দায়িত্ব পালনের সময় খেলোয়াড়দের সঙ্গে অসাধারণ সম্পর্ক গড়ে তোলাই ছিল জিদানের সবচেয়ে বড় শক্তি। আন্তর্জাতিক ফুটবলেও সেই মানবিক নেতৃত্বই তার সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হতে পারে।

তিনি খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করতে জানেন। তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে জানেন। একটি দলের সেরাটা কীভাবে বের করে আনতে হয়, সেটাও তার জানা।

বর্তমান ফ্রান্স দলের তারকা ফুটবলারদের অনেকেই—যেমন কিলিয়ান এমবাপ্পে কিংবা মাইকেল অলিসে—শৈশব থেকেই জিদানকে আদর্শ মানতেন। ফলে ড্রেসিংরুমে তাকে ঘিরে এখন দারুণ উত্তেজনা। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তির সঙ্গে কাজ শুরু করার অপেক্ষায় রয়েছেন সবাই।

আন্তর্জাতিক ফুটবলের সময়সূচিও বাস্তববাদী কোচ জিদানের জন্য বেশ উপযোগী। কৌশলগত দিক থেকেও রিয়াল মাদ্রিদে তার বেশ কিছু অভিনব সিদ্ধান্ত দেখা গেছে। যেমন ইসকোকে নম্বর টেন হিসেবে ব্যবহার করা কিংবা করিম বেনজেমাকে আক্রমণভাগে বহুমাত্রিক ভূমিকায় খেলানো—প্রথমে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সহায়ক হিসেবে, পরে তার বিকল্প হিসেবে।

জিদানের দর্শন নির্দিষ্ট ছকে খেলাকে সীমাবদ্ধ রাখার নয়। বরং তিনি বিশ্বাস করেন, দলের প্রতিটি তারকা ফুটবলারকে এমন জায়গায় খেলাতে হবে, যেখানে তারা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিতে পারে।

একবার বার্নাব্যুতে দায়িত্ব পালনকালে জিদান বলেছিলেন, ‘লুকা মদরিচকে বল কীভাবে পাস করতে হয়, সেটা আমাকে শেখাতে হয় না। সে সেটা আগেই জানে। আমার কাজ হলো এমন পরিবেশ ও এমন অবস্থান তৈরি করা, যেখানে সে নিজের সেরা হয়ে উঠতে পারে।’

এটাই মূলত আন্তর্জাতিক ফুটবলের আসল দর্শন। আর ঠিক এই দর্শন নিয়েই ফ্রান্স জাতীয় দলের নতুন যুগ শুরু করতে যাচ্ছেন জিনেদিন জিদান।

ফ্রান্সের হয়ে নিজের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে জিদান বলেছেন, ‘শেষবার কোচিং ছাড়ার পর গত পাঁচ বছরে আমি বেশ কয়েকটি প্রস্তাব পেয়েছিলাম। কিন্তু ফ্রান্স জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার আশায় আমি সব প্রস্তাবই ফিরিয়ে দিয়েছি।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘আমি এই দিনের অপেক্ষাতেই পাঁচ বছর কাটিয়েছি। আজ যখন সেই দিন এসেছে, তখন আবেগাপ্লুত না হয়ে পারছি না। রিয়াল মাদ্রিদে দায়িত্ব শেষ করার পর ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচের পদই ছিল একমাত্র দায়িত্ব, যেটিতে আমার আগ্রহ ছিল।’

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »