পঞ্চগড় প্রতিনিধি- পঞ্চগড়ে ফিল্মি স্টাইলে হত্যা রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবী করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা পলিশ (ডিবি) ।সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহাসিক মহারাজাদিঘীতে ভেসে ওঠা লাশের পরিচয় শনাক্তের পর ক্লু উদ্ধারে মাঠে নামে পুলিশের একটি চৌকস দল।
উদ্ধারকৃত ওই হত্যার শিকার মানিক হোসেন (১৯) পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের মালাধাম এলাকার রইস উদ্দীনের ছেলে।পঞ্চগড় জেলা পুলিশের প্রদত্ত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় গত বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২ টার দিকে মহারাজা দিঘীতে একটি অজ্ঞাতনামা লাশ ভেসে ওঠে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের নেতৃত্বে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
পরবর্তীতে লাশের পরিচয় শনাক্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারন নির্ণয় হওয়ার জন্য লাশ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।তবে লাশ উদ্ধারের পর খুনের শিকার মানিকের পরিহিত প্যান্টের সাথে পলিথিনে ব্যাগে মোড়ানো একটি চিরকুট পাওয়ার পর পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের চৌকস টিম।
ওই চিরকুটির সূত্র ধরে সন্দেহ দানা বাঁধে পুলিশের মাঝে , রহস্য উদঘাটনে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালায় ডিবি পুলিশ। পুলিশের তৎপরতায় সন্দেহের তীর নিহতের পরিবারের দিকে বাড়তে থাকে।ঘটনার এক পর্যায়ে নিহত মানিকের বড় বোন সলমা আক্তার (২৪) এর বাড়ির শয়ন কক্ষে তল্লাশি চালায় পুলিশের একটি টিম। ভিকটিমের প্যান্টে পাওয়া ওই চিরকুটের সাথে হুবহু লেখা সম্বলিত একটি ক্যালেনডার ও আরও একটি বাটন ফোন উদ্ধার করা হয়।
এতে হত্যার ক্লু উদ্ধারে সহজতর হওয়ার বিষয়টি ডিবি পুলিশের সামনে আসে। তার ফলশ্রতিতে সমলা আক্তারকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাবাদ করা হলে, এক পর্যায়ে সমলা আক্তার প্রাথমিক ভাবে এই হত্যার দায় স্বীকার করে বলে দাবী ডিবি পুলিশের। এছাড়া সমলা আক্তার জানায় মানিক তার আপন ছোটো ভাই ।
ওই পুলিশের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে , সমলা আক্তারের ইতিপূর্বে দুবার বিয়ে হয়। এরপর আনুমানিক দুবছর আগে তার জনৈক এক ব্যক্তির সাথে তৃতীয় বিয়ে হয়।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত তিন / চার মাস আগে মানিক তার বড় বোন সমলা আক্তারকে জোড় পূবর্ক শারীরিক সর্ম্পক স্থাপনে বাধ্য করে এবং তা গোপনে ভিডিও করে এবং ওই ভিডিও সংরক্ষন করে রাখে। পরবর্তীতে ওই ভিডিও তার স্বামীকে দেখানোর ভয় দেখিয়ে তার সাথে নিয়মিত শারীরিক সর্ম্পক স্থাপন করে। এটি কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছিলনা সমলা আক্তার। এক পর্যায়ে বিষ এক পর্যায়ে বিষয়টি স্বামীকে জানায়।
এমন অবস্থায় ঘটনার আগের দিন ১২ জুলাই প্রতিবেশী ফারুক, মরম, শেফালী, ফরহাদ, আমিনা ও ফতেমা গংদের সাথে সমলা আক্তারের ঝগড়া বিবাদ হয়। এ সুযোগে তাদের উপড় দায় চাপাতে মানিককে হত্যার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
এরপর ১৩ জুলাই সন্ধ্যা সাতটার দিকে সমলা আক্তার কৌশলে মানিককে ওই মহারাজা দিঘী এলাকায় বেড়াতে নিয়ে যায় সমলা আক্তার। সেখানেও একটি বাড়িতে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে মানিক। এরপর ওই দিঘীর পার এলাকায় একটি হোটেলে বসে সময় ক্ষেপন করে। এক পর্যায়ে ওই হোটেলে পানি খাওয়ার সময় ঘুমের ঔষুধ মিশিয়ে দেয়। এরপর ঘুমে টলমল করতে থাকে মানিক। এ ঘটনার কিছুক্ষন পর মানিককে নিয়ে মহারাজা পুকুরের পশ্চিমে নিয়ে গিয়ে বসে। মানিকের এ্যানডয়েট মোবাইলটি পুকুরে ফেলে দেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী আশপাশে অবস্থান করা অন্যান্য সহযোগীদের সাথে নিয়ে তাকে হত্যা করে মহারাজা পুকুরে লাশ ফেলে দেয়।
এরপর রাত আনুমানিক একটার দিকে খুনি ও সমলা আক্তার বাড়িতে ফিরে আসে।এই হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সমলা আক্তার (২৪) সহ তার চাচার শ্যালক শাহাবুদ্দীন (৪৯ কে গ্রেপ্তার করা হয়। পঞ্চগড় সদর থানা সূত্রে জানা যায় গত বৃহষ্পতিবার সমলা আক্তারকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি নিজেকে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।
এ ব্যাপারে পঞ্চগড়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যানড অপস) ফরহাদ হোসেন জানান প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জোড়পূর্বক শারীরিক সর্ম্পকের ক্ষোভ থেকেই এই হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা করা হয়। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত র্কাযক্রম অব্যাহত রয়েছে।













