• Home
  • শিক্ষা
  • জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাদানে ‘প্যারাডাইম শিফট’ আসছে: ভাইস-চ্যান্সেলর
Image

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাদানে ‘প্যারাডাইম শিফট’ আসছে: ভাইস-চ্যান্সেলর

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি: চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী করে গড়ে তুলতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

বুধবার রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনে ডেইলি স্টার ও গ্রামীণফোন আয়োজিত “ফিউচার-রেডি বাংলাদেশ: এআই, স্কিলস অ্যান্ড ইয়ুথ এমপ্লয়্যাবিলিটি ইন দ্য ডিজিটাল ইকোনমি”শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ড. আমানুল্লাহ বলেন, “বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ৭০% পরিচালনা করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী ও আড়াই হাজার কলেজ নিয়ে এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়। আমাদের এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ কেবল সনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। বর্তমান ও ভবিষ্যতের বাজার এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং ডিজিটাল দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল। তাই আমরা আমাদের পাঠ্যক্রমে একটি ‘ প্যারডাইম শিফট’ বা আমূল পরিবর্তন আনছি, যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থী স্নাতক শেষ করার আগেই কোনো একটি প্রায়োগিক বা প্রযুক্তিগত দক্ষতায় পারদর্শী হয়ে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারে।”

তিনি বলেন, “আইসিটির শিক্ষকের সংকট থাকায় আমরা দেশব্যাপী বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষকদের আইসিটি প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। তাদের মধ্য থেকেই আমরা মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করছি। আমাদের আইসিটির কোনো শিক্ষক নেই। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে সেশনজট ও নানা বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে। উচ্চশিক্ষার রাজনৈতিকীকরণের কারণে বছরের পর বছর চেষ্টা করেও এর বৃত্ত থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সংকট উত্তরণে রাষ্ট্রীয় পলিসি সাপোর্ট খুব প্রয়োজন।”

ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, “আমাদের বর্তমান সিলেবাস এতটাই পিছিয়ে আছে যে, তা দিয়ে প্রথম বা দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাই কঠিন। অথচ আমরা এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে বাস করছি। এ আই নিয়ে কথা বলছি। নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা ও বাঁধা উপেক্ষা করেই আমরা আধুনিক ও সময়োপযোগী বিষয় চালুর জন্য ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছি।”

বিশ্ববিদ্যালয়কে ঢেলে সাজানোর বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী করতে ইংরেজি ও আইসিটি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শেখার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি আইটি, কোডিং, এআই লিটারেসি এবং সফট স্কিলসকে মূল ধারার পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।”

ড. আমানুল্লাহ বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও চীনসহ বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সাথে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লিংকেজ’ তৈরিসহ বিভিন্ন ‘অ্যাপ্রেন্টিসশিপ’প্রোগ্রাম চালু করা হচ্ছে। এছাড়া রেমিট্যান্স বাড়াতে এবং ড্রপআউট (ঝরে পড়া) শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে মাইক্রো-লার্নিং ও মাইক্রো-ক্রেডেনশিয়াল কোর্স চালু করা হয়েছে। আমাদের যুবসমাজ অত্যন্ত মেধাবী ও প্রযুক্তি-বান্ধব। সঠিক সময়ে তাদের সঠিক দক্ষতা (Right Skills) দিতে পারলে তারা গ্লোবাল টেক জবেও নেতৃত্ব দেবে বলে, আমি আশা রাখি।”

ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। হেড অব স্ট্রাটেজিক পার্টনারশিপস তানজিম ফেরদৌসের পরিচালনায় গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও শ্রম-কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদি আমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ।

বৈঠকে বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণ ফোনের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) অটো মাগনে রিসব্যাক, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সভাপতি মুনির হাসান, দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ, ইউএনডিপির প্রজেক্ট ম্যানেজার মারুফ আজম, শিখোর সিইও শাহির চৌধুরী, গ্রামীণফোন একাডেমির হেড অব এনভায়রনমেন্ট, সোশ্যাল অ্যান্ড গভর্ন্যান্স ফারহানা হোসেন শাম্মী, গ্রামীণফোন একাডেমির আমান উল্লাহ আমান ও মারিয়া নাওয়ার। অনুষ্ঠানে বিষয়ভিত্তিক তথ্য উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. জুলকারিন জাহাঙ্গীর, গ্রামীণফোনের হেড অব এনভায়রনমেন্ট, সোশ্যাল অ্যান্ড গভর্ন্যান্স ফারহানা ইসলাম।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »