ভারি বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে কোনো পরীক্ষার্থী গত ১৩ জুলাই এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে না পেরে থাকলে তারা আবারও ওই বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সঙ্গে একই দিনে তারা ওই বিষয়ের পরীক্ষা দিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
মঙ্গলবার রাতে এক ফেইসবুক পোস্টে সরকারের এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে তিনি লেখেন, “যদি বিরূপ আবহাওয়ার কারণে দেশের কোথাও কোনো শিক্ষার্থী (সোমবার) পরীক্ষা দিতে না পারে, তবে তারা চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সঙ্গে একই দিনে অংশগ্রহণ করতে পারবে।”
সোমবার ছিল এইচএসসি ও সমমানে ষষ্ঠ দিনের পরীক্ষা। রোববার দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারি বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে সোমবারের এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা প্রথম পত্র পরীক্ষা স্থগিতের দাবি ওঠে।
তবে চট্টগ্রাম বোর্ডে ও এ বিভাগ ছাড়া সোমবার অন্যান্য এলাকায় পরীক্ষা চালিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয় শিক্ষা বোর্ডগুলো। ভারি বর্ষণ চলে সোমবার বিকাল পর্যন্ত। ফলে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়ার অভিযোগ আসে। একই দিন পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র পরীক্ষা দুইটি ভুল প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় পরীক্ষার্থীদের।
এরমধ্যেই সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও ঘিরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ বাড়ে। যেখানে শিক্ষামন্ত্রীকে এক নারীর সঙ্গে আলাপচারিতায় পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে সম্বোধন করতে শোনা যায়।
এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ, পরীক্ষা স্থগিত করা এবং সোমবারের পরীক্ষায় বসতে না পারা পরীক্ষার্থীদের ফের সুযোগ দেওয়ার দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজধানী ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, কুড়িগ্রাম, টাঙ্গাইল, ঝালকাঠি, জয়পুরহাট, বরিশাল, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে পরীক্ষার্থীদের ফার্মের মুরগির সঙ্গে তুলনা করে দেওয়া ওই বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী মিলন।পরীক্ষা দিতে সমস্যায় পড়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের প্রথম পত্রের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘‘বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের যেসব জেলার পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে, ওই বিষয়গুলোর নতুন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সময়ই সারাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।’’
তবে কারা পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে বা সবাইকে আবার পরীক্ষা দিতে হবে কি না, সে বিষয়ে তখন বিস্তারিত কিছু বলেননি মন্ত্রী। পরে রাতে মাহ্দী আমিন তার ফেইসবুক পোস্টে বিষয়টি খোলাসা করেন।সেখানে তিনি বলেন, ‘‘পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্র পরীক্ষায় দুই ভুল প্রশ্নের জন্য সব শিক্ষার্থীকে ‘পূর্ণ নম্বর’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’’
একইসঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগ ছাড়া দেশের অন্য সব এলাকায় পরীক্ষা যথারীতি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তও জানান তিনি।শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বুধবারের পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ারও দাবি জানিয়েছিল। তা না হলে সচিবালয় অভিমুখে ‘লং মার্চ’ করার ঘোষণা দিয়েছিল তারা।বুধবার চট্টগ্রাম ছাড়া নয়টি সাধারণ বোর্ডের অধীনে এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা হবে।
এদিন চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলা ছাড়া অন্যান্য জেলায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিমে আরবি দ্বিতীয় পত্র এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি বিএমটির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ ও ২, ভোকেশনালের উচ্চতর গণিত ১ ও ২ এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্সের উচ্চতর হিসাব বিজ্ঞান পরীক্ষা হওয়ার কথা আছে।
বৈরী আবহাওয়া ও বন্যার কারণে গত ৮ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম বিভাগ ও এ বোর্ডের জেলাগুলোতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত আছে, যা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।গত ২ জুলাই থেকে সারাদেশে ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়, যাতে অংশ নিচ্ছেন প্রায় পৌনে ১৩ লাখ শিক্ষার্থী।














