• Home
  • দেশ
  • খাস পুকুর দখল ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ

    সিংড়ায় উত্তপ্ত বেলতা গ্রাম, ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর মানববন্ধন
Image

খাস পুকুর দখল ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ

সিংড়ায় উত্তপ্ত বেলতা গ্রাম, ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর মানববন্ধন

রাকিবুল ইসলাম, সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি-নাটোরের সিংড়া উপজেলার রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়নের বেলতা গ্রামে সরকারি খাস পুকুর দখল এবং গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ মামলার প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও ফাঁসাতে ভাঙচুরের নাটক সাজিয়ে মামলা করা হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। পুলিশের ঝটিকা অভিযানে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পর, এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেলে শতাধিক নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেলতা গ্রামের দুটি সরকারি খাস পুকুর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।

গ্রাম্য প্রধান জামশেদ আলী জানান, বিগত দুই বছর ধরে পুকুর দুটি নিয়ে আদালতে মামলা চলায় স্থানীয় বাসিন্দারা সর্বসম্মতভাবে মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থানের উন্নয়নের স্বার্থে সেখানে মাছ চাষ করে আসছিলেন। অর্জিত আয় দিয়ে ইতিমধ্যে স্থানীয় কবরস্থানের মাটি ভরাটসহ নানা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কাজ করা হয়েছে।
কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী আনোয়ার, সাকিব, রেজা ও অনিকসহ কয়েকজন মিলে গ্রামে ‘চার দিগন্ত’ নামে একটি ক্লাব গড়ে তোলে।

অভিযোগ রয়েছে, এই ক্লাবের আড়ালে জুয়া খেলাসহ বিভিন্ন অপকর্ম চালানো হতো। ক্লাবটির সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসীর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল এবং একটি পুকুর তাদের ক্লাবের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। গ্রামবাসী এই অন্যায় দাবি মেনে না নেওয়ায় গত ১ জুলাই সকাল ৯টার দিকে ক্লাবের সদস্যরা পুকুর দুটিতে লাল পতাকা টাঙিয়ে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে।

মানববন্ধনে উপস্থিত নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৌরভ হোসেন ও তামিম হোসেন জানায়, লাল পতাকা টাঙানোর খবর পেয়ে গ্রামের সাধারণ মানুষ গিয়ে পতাকাগুলো নামিয়ে অত্যন্ত শান্তভাবে ক্লাবের আঙিনায় রেখে আসে। কিন্তু গ্রামবাসীকে ফাঁসাতে ক্লাবের লোকেরাই নিজেদের আসবাবপত্র এবং দেওয়ালে থাকা প্রধানমন্ত্রীর ছবি নিজেরা ভাঙচুর করে। পরবর্তীতে এই সাজানো ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিকেলেই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পর পরই পুলিশ কোনো তদন্ত ছাড়াই রাতে গ্রামে প্রবেশ করে আসামিদের ধরতে বাড়ি বাড়ি সাঁড়াশি অভিযান চালায়। এতে করে বেলতা গ্রামে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে গভীর ভীতি তৈরি হয়।

ভীতি ও ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা শাহনাজ, বেগম ও মিলন আলী মন্ডল বলেন: “তারা ক্লাবে জুয়া খেলে আর আমাদের কাছে চাঁদা চায়। চাঁদা না দেওয়ায় এখন নিজেরা জিনিসপত্র ভেঙে আমাদের ওপর মিথ্যা দোষ চাপাচ্ছে। পুলিশ তদন্ত না করেই রাতে এসে বাড়িতে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। আমরা এই অন্যায় আর জুলুমের বিচার চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মামলার বাদী আনোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, আমি ফোনে কোনো বক্তব্য দেবো না। সরাসরি এসে বক্তব্য নাও, এভাবে সাংবাদিকের কাছে বক্তব্য দিতে আমি রাজি নই। থানায় মামলা করেছি, মামলার আর্জিতেই আমার সব বক্তব্য আছে।”

অন্যদিকে সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, “সিংড়া থানায় আনোয়ার নামে এক ব্যক্তি ভাঙচুরের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিতে ও আসামি গ্রেফতারের জন্য সেখানে গিয়েছিল।”

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগী গ্রামবাসী প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, একটি কুচক্রী মহল রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গ্রামের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের তহবিল নষ্ট করার এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার পাঁয়তারা করছে। তারা অবিলম্বে এই ‘মিথ্যা মামলা’র সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করার জোর দাবি জানান।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »