• Home
  • দেশ
  • জনমনে নানা প্রশ্ন, ডিসি বললেন ব্যাখা চাইবো

    তেতুলিয়ায় ইউএনওর পক্ষে মানববন্ধন করলেন সরকারী কর্মকর্তা – কর্মচারী
Image

জনমনে নানা প্রশ্ন, ডিসি বললেন ব্যাখা চাইবো

তেতুলিয়ায় ইউএনওর পক্ষে মানববন্ধন করলেন সরকারী কর্মকর্তা – কর্মচারী

পঞ্চগড় প্রতিনিধি : পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরুর বিরুদ্ধে চাকরী দেওয়ার নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুলে ফেসবুক লাইভে টাকা ফেরতের দাবী করেন রেহানা বেগম উর্মি নামক এক নারী। ঘটনার পরদিনই ইউএনওর পক্ষে নীতিমালা ভঙ্গ করে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও কর্মবিরতি পালন করেন উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ কর্মসূচীকে ঘিরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরপেক্ষতা ও আচরণবিধি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) তেতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে প্রায় ঘন্টাব্যাপী এই কর্মসূচী পালন করেন উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর আগের দিন সোমবার ফেসবুক লাইভে ইউএনওকে তোপের মুখে ফেলেন রেহানা বেগম উর্মি নামক ওই নারী।

উর্মি জানান, প্রায় ছয় মাস আগে তার ছেলেকে গ্রাম পুলিশে চাকরী দেওয়ার আশ্বাসে ইউএনও তার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা দাবি করেন। পরে তিনি এক লাখ ৮০ হাজার টাকা দেন।দীর্ঘ সময় পার হলেও চাকরী না হওয়ায় তিনি টাকা ফেরত চান। এরই মধ্যে ইউএনওর বদলীর খবর জানতে পেরে সোমবার (২৯ জুন) ইউএনও কার্যালয়ের সামনে ফেসবুক লাইভে এসে প্রকাশ্যে টাকা ফেরতের দাবী জানান এবং পরে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন তিনি।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে ইউএনওর কাছে টাকা ফেরত চাইছেন। জবাবে ইউএনও বলেন, তিনি ওই নারীকে চেনেন না এবং পুরো ঘটনাটি সাজানো নাটক।

এ বিষয়ে ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ওই নারীকে আমি চিনি না, তার সঙ্গে আমার কখনো দেখা বা কথা হয়নি। যে নিয়োগের কথা বলা হচ্ছে, সেটিও আগেই বাতিল করা হয়েছে এবং তার ছেলের নামে কোনো আবেদন ও নেই।

এমন ঘটনার পর, নিয়মনীতি উপেক্ষা করে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও কর্মবিরতি পালন করে বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অভিযোগটিকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবী করে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়েছেন।

মানববন্ধনে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবরিনা আফরিন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাজমুল হক, উপজেলা প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী খান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের সহকারী প্রোগ্রামার নবীউল কারিম সরকার, উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মুক্তার হোসেনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ইউএনওর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি অসত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে এবং অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মসূচীর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জেলা প্রশাসক বলেন, কেন তারা এই কর্মসূচী পালন করলেন, আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জেলা পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাইবো। তার পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »