এএফপি: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল শনিবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার যুদ্ধ শুরু করতে বাধ্য হয়, তবে ইরানের ‘আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না’। একই সঙ্গে তিনি তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগও করেছেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, ‘আবারও যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করায় যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজগুলো এইমাত্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনাগুলোয় হামলা চালিয়েছে।’
ট্রাম্প হুমকির সুরে আরও লেখেন, ‘এমন একটি সময় আসতে পারে, যখন আমাদের পক্ষে আর সংযত থাকা সম্ভব হবে না এবং আমরা অত্যন্ত সফলভাবে যে অভিযান শুরু করেছি, তা সামরিকভাবে সম্পন্ন করতে বাধ্য হব। যদি তা ঘটে, তবে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না!’
এর আগে ইরানের বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। গতকাল শনিবার এসব হামলা চালানো হয়।
হরমুজ প্রণালিতে গতকাল বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে।মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের চলমান হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) আজ (শনিবার) দেশটিতে হামলা চালিয়েছে।
সেন্টকম আরও বলেছে, শুক্রবারও ২০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেলবাহী একটি ট্যাংকারে ইরান হামলা চালিয়েছে। সেটি পানামার পতাকাবাহী ট্যাংকার ছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া ৩৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়। সেন্টকম ভিডিওটি পোস্ট করে। তবে এটি কিছুটা ঝাপসা ছিল। আকাশ থেকে ধারণ করা হয়েছিল।
ওই পোস্টে আরও জানানো হয়, মার্কিন নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী হরমুজের কাছে ইরানের ১০টি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। এরই মধ্যে দুই সপ্তাহ আগে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা।
স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তির জন্য সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে আলোচনাও শুরু হয়েছে। তবে স্মারকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যেসব সমঝোতা হয়েছে, তা লঙ্ঘনের অভিযোগ দুই পক্ষই একাধিকবার একে অপরের বিরুদ্ধে এনেছে।
















