সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ রংপুরের কাউনিয়ায় চলতি মৌসুমে বোরো ধান ভুট্টা ও বাদামের বাম্পার ফলনের পর এখন গ্রামীণ জনপদজুড়ে চলছে ধান সিদ্ধ ও শুকানোর ব্যস্ততার সাথে ভুট্টা ও বাদাম শুকানো। আধুনিক চালকলের প্রসারের ফলে বাড়িতে ধান সিদ্ধ ও শুকানোর প্রচলন কিছুটা কমলেও এখনও উপজেলার চরাঞ্চলসহ প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে কৃষক পরিবারগুলো নিজ উদ্যোগে ধান প্রক্রিয়াজাত করে ঘরে তুলছেন। আর উঠান কমে যাওয়া ও কাদা মাটির জন্য ধান ভুট্টা বাদাম শুকানোর কাজে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ফিল্টার নেট (জাল)।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ধান মাড়াই শেষে কৃষাণীরা বড় বড় হাড়িতে ধান সিদ্ধ করছেন। বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এ কার্যক্রম। পরে ভোরবেলা সিদ্ধকৃত ধান বস্তায় ভরে ভ্যান বা সাইকেলে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে খোলা মাঠ, নদীর পাড়, সেতুর আশপাশ কিংবা স্কুল মাঠে। সেখানে বড় আকারের ফিল্টার নেট বিছিয়ে তার ওপর ধান শুকানো হচ্ছে।
গ্রামীণ জনপদে আগের মতো বিস্তৃত উঠান না থাকায় কৃষকরা এখন বিকল্প স্থান হিসেবে খোলা মাঠ ও ফাঁকা জায়গা বেছে নিচ্ছেন। এতে ধান ভুট্টা বাদাম মাটির সংস্পর্শে না এসে পরিষ্কার থাকে এবং দ্রæত শুকায়।
চরগকুন্ডা গ্রামের আমেনা বেগম বলেন, “এক বিঘা জমির ধান সিদ্ধ করে শুকাতে এনেছি। বাড়িতে জায়গার অভাব, আবার আকাশও অনিশ্চিত। তাই খোলা জায়গায় এনে ফিল্টার নেটের ওপর ধান শুকাচ্ছি। এতে ধান পরিষ্কার থাকে এবং ঝামেলাও কম হয়।”
গদাই গ্রামের কৃষক শাহজাহান মন্ডল জানান, আগে প্রায় প্রতিটি বাড়ির উঠানে ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজ হতো। এখন জায়গার সংকটের কারণে নদীর পাড়, স্কুল মাঠ কিংবা ফসলি মাঠের ফাঁকা স্থানে নেট বিছিয়ে ধান ভুট্টা বাদাম শুকানো হচ্ছে। ফলে ফিল্টার নেটের চাহিদা ও ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
বালিকা বিদ্যালয় মোড়ের ব্যবসায়ী প্রহলাদ চন্দ্র বলেন, ধান ও ভুট্টা কাটার মৌসুমে ফিল্টার নেটের বিক্রি দ্বিগুণ হয়ে যায়। কৃষকরা ধান ও ভুট্টা শুকানোর জন্য ব্যাপকভাবে নেট ব্যবহার করায় বাজারে এর চাহিদাও বেড়েছে।
বাম্পার ফলনের আনন্দে গ্রামীণ জনপদে এখন যেন ধান সিদ্ধ ও শুকানোর উৎসব চলছে। আর কৃষকের এই ব্যস্ততায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে ফিল্টার নেটের ব্যবহার।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার জানান, “আগে কৃষকরা সরাসরি উঠান বা মাঠে ধান ও ভুট্টা এবং বাদাম শুকাতেন। বর্তমানে ফিল্টার নেট ব্যবহার করায় ধান ময়লামুক্ত থাকে, গুণগত মান ভালো হয় এবং বাজারে তুলনামূলক বেশি দাম পাওয়া যায়।”
















