• Home
  • দেশ
  • পঞ্চগড়ে সড়ক নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগে মামলা: জেল হাজতে ঠিকাদার
Image

পঞ্চগড়ে সড়ক নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগে মামলা: জেল হাজতে ঠিকাদার

পঞ্চগড় পপ্রতিনিধি: পঞ্চগড়ে বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নে সড়ক নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগে মামলা; ঠিকাদার জেল হাজতে। মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের মহিষবাথান-ভাউলাগঞ্জ ভায়া নায়েকপাড়া মোড় পর্যন্ত ৭৪৭ মিটার কাঁচা রাস্তা পাকা করার কার্যাদেশ পান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ভাই বোন ট্রেডার্স’। তবে চুক্তি অনুযায়ী কাজটি সাব-ঠিকাদার হিসেবে ওই পপ্রকল্পটির বাস্তবায়ন করছিলেন দেবীগঞ্জ উপজেলার ভাউলাগঞ্জ এলাকার ‘মেসার্স দুলাল ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী শাহীনুর ইসলাম শাহীন (৩৩)।

তবে কাজ চলাকালিন সরকারী ওই রাস্তাটিতে সিডিউল বর্হিভূত ভাবে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এতে বাঁধা দেওয়ায় এলজিইডি’র সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী প্রকৌশলী, সার্ভেয়ার ও স্থানীয় জনতাকে প্রাণনাশের হুমকি ও মারধর করার অভিযোগে বোদা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত এজাহারনামীয় এক আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ঘটনাস্থল থেকে নিম্নমানের ইট আলামত হিসেবে জব্দ করেছে। এঘটনার এক পর্যায়ে গত মঙ্গলবার দুপুরে ওই বড়শশী ইউনিয়নের মৌলভীপাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণাধীন রাস্তার দুই ধারের এজিং-এ অত্যন্ত নিম্নমানের ৩ নম্বর ইট ব্যবহার করার খবর পেয়ে বোদা উপজেলা প্রকৌশলী ফিরোজুর রহমান এবং সার্ভেয়ার হযরত আলী সরেজমিনে পরিদর্শনে যান।

ঘটনাস্থলে নিম্নমানের কাজের সত্যতা পেয়ে কর্মকর্তারা কারণ জানতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সাব-ঠিকাদার শাহীনুর ইসলাম।এ সময় তিনি এবং তার সাথে থাকা অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জন সহযোগী বেআইনিভাবে দলবদ্ধ হয়ে এলজিইডি কর্মকর্তাদের সামনেই ধাক্কাধাক্কি শুররু করেন। একপর্যায়ে উপস্থিত কর্মকর্তা ও স্থানীয় লোকজনদের উদ্দেশ্য হুমকি দিয়ে বলেন, আমরা যেমন ইচ্ছা তেমন করে রাস্তার কাজ করবো’। যদি কেউ বাঁধা দিতে আসে তাদের জানে মেরে ফেলব।”

ঠিকাদারের এমন ঔদ্ধত্য দেখে স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।এসময় পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাৎক্ষনিক ভাবে পপ্রকৌশলীগন বোদা থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ দ্রত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা পালিয়ে গেলেও মূল অভিযুক্ত সাব-ঠিকাদার শাহীনুর ইসলাম শাহীনকে পুলিশ হেফাজতে নেয় এবং পরবর্তীতে গ্রেপ্তার করে।

এ ঘটনায় বোদা উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের সার্ভেয়ার হযরত আলী বাদী হয়ে বোদা থানায় পেনাল কোডের ১৪৩/৩২৩/৪০৬/৪২০/৫০৬(২)/৩৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নম্বর- ৩১ (তারিখ: ৩১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩)।মামলার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) তপন কুমার রায় ঘটনাস্থল সংলগ্ন জনৈক মিনাররুল ইসলামের বাড়ির খোলা জায়গা থেকে রাস্তা নির্মাণে ব্যবহারের জন্য আনা ১০০ পিস নিম্নমানের ইট (যাতে গগজ২ লেখা রয়েছে) জব্দ তালিকা মূলে আলামত হিসেবে উদ্ধার করেন।

উপজেলা প্রকৌশলী ফিরোজুর রহমান জানান, নিম্ন মানের ইট দিয়ে এজিং করায় ওই ঠিকাদার কে আগেও সতর্ক করা হয়েছিলো। কিন্তু তারা সে কথা না শুনে ইচ্ছেমতো কাজ চালিয়ে যাওয়ায় এলাকাবাসী প্রতিবাদ জানাতে গেলে ঠিকাদারের লোকজন উল্টো তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে।পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আমাদের পুলিশের সহায়তা নিতে হয়েছে।

এব্যাপারে স্থানীয় সরকার পপ্রকৌশল এলজিইডি পঞ্চগড়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম জানান,সরকারী রাস্তার কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার সহ দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও স্থানীয় লোকজনের সাথে খারাপ আচরণ করায় মামলা দায়ের হয়েছে। আইনী ভাবেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এবিষয়ে বোদা থানার আফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোয়েল রানা জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে ঠিকাদার শাহীনুর ইসলাম শাহীনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয় এবং বুধবার তাকে কোর্টে সোর্পদ করা হয়। ওই মামলায় তিনি আরও ৫-৬ অজ্ঞাত কে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নি¤œমানের (নমুনা) ইট বড়শশী ইউনিয়ন পরিষদে রাখা হয়েছে। মামলা তদন্তাধীন সহ আসামীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জব্দকৃত ইট এলজিইডিতে পাঠানো হবে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »