• Home
  • প্রচ্ছদ
  • চাপে পড়ে নয়, দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই বোয়িং কেনার চুক্তি হয়েছে: মাহদী
Image

চাপে পড়ে নয়, দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই বোয়িং কেনার চুক্তি হয়েছে: মাহদী

বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি কারও ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

তিনি আরও বলেন, দ্বিপক্ষীয় স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে আগে থেকেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। চুক্তি স্বাক্ষরের সময় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না, তবে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ব্রিফিংয়ে মাহদী আমিন এসব কথা বলেন। বিএনপি মিডিয়া সেলের এক ফেসবুক পোস্টে এ কথা জানানো হয়।

মাহদী আমিন আরও জানান, সফরকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে ‘স্ট্র্যাটেজিক সিভিল নিউক্লিয়ার কো-অপারেশন’ নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এটিও প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির বাইরে একটি আলাদা সাইডলাইন বৈঠকে সম্পন্ন হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র আরও উল্লেখ করেন, এই সফরে কেবল যুক্তরাষ্ট্র বা জাতিসংঘের কর্মসূচিই নয়; প্রধানমন্ত্রী মোট ১১টি দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। এসব প্রতিটি আলোচনাতেই বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ এবং জনগণের কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘে চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা এবং সম্ভাবনাকে বিশ্বমানচিত্রে অত্যন্ত সুদৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছেন বলেও জানান মুখপাত্র মাহদী আমিন। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস, আত্মপ্রত্যয় এবং আত্মমর্যাদাবোধ সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছে বলেও জানান তিনি।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে শুরু করে তরুণ, নারীসহ প্রতিটি শ্রেণি ও পেশার মানুষের জন্য সুনির্দিষ্ট পলিসি ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন।

এই পরিকল্পনাগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কেবল বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়েই কথা বলেননি, তিনি বিশ্ব শান্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।

ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মাহদী আমিন বলেন, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পরই যখন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দিতে ওঠেন, তখন বাংলাদেশ সেখান থেকে ‘ওয়াকআউট’ করে প্রতিবাদ জানায়। এটি বিশ্ব শান্তির পক্ষে বাংলাদেশের স্পষ্ট বার্তা বহন করে।

জাতিসংঘে এই সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও সফল হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশে জনগণের ভোটে নির্বাচিত কোনো সরকারপ্রধান বিশ্বমঞ্চে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে এক উচ্চতর জায়গায় নিয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বের প্রতিটি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানেরা তাকে অত্যন্ত সাদরে ও উষ্ণতার সঙ্গে গ্রহণ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময় ও স্বল্পতম সফরসঙ্গী নিয়ে চার দিনের এক সফল সফর শেষ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই তিনি অংশ নিয়েছেন মোট ৩০টি কর্মসূচিতে, যার মধ্যে ছিল বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠক। এ ছাড়া তিনি জাতিসংঘের ৮টি প্রধান ইভেন্টে অংশ নেন এবং ৭ টিতে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রীর এ ব্যস্ত সূচিতে ছিল বেশ কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের ইভেন্টও উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, এর মধ্যে দুটি বিশেষ প্রোগ্রাম বাংলাদেশ সরকার নিজেই আয়োজন করে, যার একটি ছিল সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যটি রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে। এর পাশাপাশি তিনি পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত আরও দুটি বৈশ্বিক হাই-লেভেল ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফল সফর থেকে প্রেরণা নিয়ে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলাদেশকে স্বনির্ভর ও স্বাবলম্বী করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা, মানবাধিকার, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং আপামর মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে সরকার যে কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে, যা দেশে ও বিদেশে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হচ্ছে-তা আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও সহকারী প্রেস সচিব কেএম নাজমুল হক।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »