Image

প্রকাশ্যে মার্কিন প্রশাসনের অন্তর্দ্বন্দ্ব

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতি ও ব্যর্থতা নিয়ে চাপের মুখে থাকা ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনে এবার প্রকাশ্যে এসেছে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি সেক্রেটারি ড্যানিয়েল পি. ড্রিসকল পদত্যাগ করেছেন।

স্থানীয় সময় সোমবার ড্রিসকল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, যুদ্ধের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের অপসারণ নিয়ে হেগসেথের সঙ্গে ড্রিসকলের একাধিকবার মতবিরোধ হয়েছিল।

ড্রিসকলের পদত্যাগ এমন এক সময়ে হলো, যখন ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী সবচেয়ে ব্যস্ত ও সংকটপূর্ণ সময় পার করছে। মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে সেনাবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এদিকে ইউরোপে মোতায়েন মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ড ইউক্রেনকে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য ও অন্যান্য সহায়তা দিচ্ছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে টিকে থাকতে এসব সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এর মধ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ একের পর এক বরখাস্ত ও প্রশাসনিক বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন। ফলে মার্কিন সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির মুখে রয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া এবং সেনাবাহিনীর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য ড্রিসকল সশরীরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, গত এপ্রিলে কোনো কারণ ছাড়াই জেনারেল র‌্যান্ডি জর্জকে বরখাস্ত করার পর থেকে সেনাবাহিনীর ‘চিফ অব স্টাফ’ পদটি শূন্য রয়েছে। এখন পর্যন্ত ওই পদে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়ারও কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।

হেগসেথ এরই মধ্যে অন্তত তিনজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে জেনারেল র‌্যান্ডি জর্জের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।

ড্রিসকলের পদত্যাগের ফলে নতুন আর্মি সেক্রেটারি নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত মার্কিন সেনাবাহিনী বেসামরিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও সংকটে পড়বে। ড্রিসকলের পদত্যাগের খবরটি প্রথম প্রকাশ করে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সময়ে এই পদত্যাগ নতুন করে প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। এ সময়ে নতুন কাউকে দ্রুত মনোনয়ন দেওয়া এবং সিনেটের অনুমোদন পাওয়া কঠিন হতে পারে।

প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর আর্মি সেক্রেটারি পদ ছাড়লেন ড্যান ড্রিসকল। ৪১ বছর বয়সি ড্রিসকল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই পদে দায়িত্ব নেওয়া সবচেয়ে কম বয়সি ব্যক্তি ছিলেন। আধুনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি ও ড্রোন ব্যবহারে আগ্রহের কারণে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে ‘ড্রোন গাই’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন।

সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেগসেথের সঙ্গে ড্রিসকলের বিরোধ কয়েক মাস ধরে চলছিল। তবে তাদের বিরোধের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। পদমর্যাদার দিক থেকে আর্মি সেক্রেটারি ড্রিসকলের অবস্থান প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের পরেই।

সম্প্রতি মার্কিন সামরিক বাহিনীর একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার পদত্যাগ ও অপসারণের পর ড্রিসকলও সেই তালিকায় যুক্ত হলেন। এর আগে গত এপ্রিলে নৌবাহিনীর সচিব জন ফেলান হঠাৎ পদত্যাগ করেন। এছাড়া সেনাপ্রধান র‌্যান্ডি জর্জ, জেনারেল ডেভিড হডনে এবং মেজর জেনারেল উইলিয়াম গ্রিনও পদ ছেড়েছেন।

ইরান যুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগে চাপের মুখে থাকা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের পদত্যাগের দাবিও জোরালো হচ্ছে। বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটররা তার পদত্যাগ দাবি করছেন। এ দাবিতে সবচেয়ে সোচ্চারদের একজন সিনেটর জন অশঅফ।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »