• Home
  • আন্তর্জাতিক
  • চীনা আলোকচিত্রীর ড্রোনে ধরা পড়ল হিমবাহ ধসের সেই ভয়াবহ মুহূর্ত!
Image

চীনা আলোকচিত্রীর ড্রোনে ধরা পড়ল হিমবাহ ধসের সেই ভয়াবহ মুহূর্ত!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপাল ও চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত ৯১৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষ। এই বিধ্বংসী বন্যার সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল তার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ মিলেছে ড্রোনে ধারণ করা একটি ভিডিওতে। খবর এনডিটিভির

চীনের এক আলোকচিত্রীর ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ৭ হাজার ২০০ মিটারের বেশি উচ্চতার লাংটাং লিরুং শৃঙ্গের কাছাকাছি পাহাড়ের ঢাল থেকে বিপুল পরিমাণ পাথর ও হিমবাহের বরফ ভেঙে নিচে নেমে আসছে।

এরপর পাহাড়জুড়ে ধুলার বিশাল মেঘ উঠতে দেখা যায়। পাথর, বরফ, কাদা ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার নিচের উপত্যকায় আছড়ে পড়ে।এর ফলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। ফুলে-ফেঁপে ওঠে ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদী। গত ২৬ আগস্টের এই দুর্যোগে নেপালে ৯ শতাধিক এবং তিব্বতে ১৬ জন মারা যান।

‘কল্পনাতীত’ দুর্যোগের মুখে নেপাল

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, তার দেশ বর্তমানে একটি ‘কল্পনাতীত ও হৃদয়বিদারক’ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি। ভয়াবহ বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র তুলে ধরাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, রাসুয়া এলাকায় ভোতেকোশি নদীর ভয়াবহ বন্যার কারণে প্রাণহানি, সম্পদের ক্ষতি ও অবকাঠামো ধ্বংসের পূর্ণ হিসাব করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রতিকূল আবহাওয়া, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং এখনও বিদ্যমান ঝুঁকির কারণে উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাবের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে নাগরিকদের জীবন রক্ষায় সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। বালেন্দ্র শাহ বলেন, ঐক্য ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে নেপাল এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে।

বারবার ঘটছে হিমবাহ ও পাহাড় ধসের ঘটনা

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হিমবাহ, বরফ ও পাহাড় ধসের এমন ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। ২০২১ সালে ভারতের উত্তরাখণ্ডে রন্টি পিক থেকে প্রায় ৯৫ কোটি ঘনফুট পাথর ও বরফ ধসে পড়ে। এর প্রায় ৮০ শতাংশ ছিল পাথর এবং ২০ শতাংশ বরফ। এতে একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস হয় এবং প্রায় ২০০ মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হন। তাদের অনেকেই ছিলেন বাঁধের কর্মী।

২০২৩ সালে ভারতের সিকিমে উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে জমাট মাটি বা পারমাফ্রস্ট গলে দক্ষিণ লোনাক হ্রদে ভয়াবহ পাহাড়ধস হয়। এতে হিমবাহের হ্রদ আটকে রাখা প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে যায় এবং বিশাল পানির ঢল নেমে আসে। বন্যায় ১ হাজার ৩০০ কোটির বেশি গ্যালন পানি পাহাড় বেয়ে নিচে নেমে গিয়ে একাধিক বাঁধ, ২৫ হাজারের বেশি ভবন এবং ৩০টির বেশি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত করে।

আর ২০২৫ সালে সুইস আল্পসে বার্চ হিমবাহ থেকে প্রায় ৩৩ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট পাথর ও বরফ ধসে পড়ে। এতে ব্লাটেন গ্রামের বড় একটি অংশ বরফ ও পাথরের নিচে চাপা পড়ে। ক্রমবর্ধমান এসব ঘটনা হিমালয় ও অন্যান্য পার্বত্য অঞ্চলে হিমবাহ গলন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির পরিবর্তন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »