• Home
  • দেশ
  • পঞ্চগড় স্কিল ডেভেলপমেন্ট একাডেমীতে (এনএসডিএ) মূল্যায়ন পরীক্ষা দিতে পারছেনা দুইশত প্রশিক্ষার্থীরা
Image

পঞ্চগড় স্কিল ডেভেলপমেন্ট একাডেমীতে (এনএসডিএ) মূল্যায়ন পরীক্ষা দিতে পারছেনা দুইশত প্রশিক্ষার্থীরা

স্টাফ রিপোর্টার পঞ্চগড়: পঞ্চগড়ে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত অঝঝঊঞ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। পঞ্চগড় স্কিল ডেভেলপমেন্ট একাডেমী নামের এই প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হওয়ার পরেও জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (ঘঝউঅ) অধীনে মূল্যায়ন পরীক্ষা না হওয়ায় ২০০ জনের বেশি প্রশিক্ষণার্থী সার্টিফিকেট পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

সরেজমিনে ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থীর উপস্থিতি দেখা যায়। কথা বলে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রয়ারী মাসে ভর্তি হওয়া প্রশিক্ষণার্থীদের অনেকেই এখনো ঘঝউঅ-এর অধীনে মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানটিতে একের পর এক ব্যাচে পাঁচটি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও প্রশিক্ষণ শেষে সার্টিফিকেট প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি বলে অভিযোগ প্রশিক্ষণার্থীদের।তাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি ঘঝউঅ-এর অধীনে রেজিস্ট্রেশন নিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও চার মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেছে। এখনো পরীক্ষা না হওয়ায় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেও সার্টিফিকেট পাচ্ছেন না তারা। এ ছাড়া প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, তাদের ঠিকমতো প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়নি। প্রশিক্ষণের বিভিন্ন বিষয় ও পরীক্ষার কার্যক্রম নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কী খাতে এসব টাকা নেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রশিক্ষণার্থীরা। প্রশিক্ষণ শেষ করেও পরীক্ষা ও সার্টিফিকেট না পাওয়ায় ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান ও দক্ষতার স্বীকৃতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। দ্রুত মূল্যায়ন পরীক্ষা গ্রহণ করে যোগ্য প্রশিক্ষণার্থীদের ঘঝউঅ সার্টিফিকেট দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

একজন প্রশিক্ষণার্থী বলেন, “আমরা নিয়ম মেনে ভর্তি হয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছি। প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর তিন মাসের মধ্যে মূল্যায়ন পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চার মাস পার হয়ে গেলেও এখনো পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। কবে পরীক্ষা হবে, সেটিও আমাদের স্পষ্ট করে জানানো হচ্ছে না।

জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ঘঝউঅ), প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (মানব সম্পদ উন্নয়ন তহবিল), প্রশাসন-১ মহিন উদ্দিন বাহার বলেন, “এই নামে একটি প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন রয়েছে। কিন্তু কখনো কেন পরীক্ষা নেওয়া হয়নি, এ বিষয়ে দেখতে হবে। যারা আবেদন করেছে, তাদের সবাইকে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। তারা হয়তো আবেদন করেননি।”

অঝঝঊঞ প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক-১ প্রকৌশলী রবীন্দ্রনাথ মাহাত বলেন, “আমাদের নাম করে টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। জামাত নেওয়ারও সুযোগ নেই। আমাদের অধীনে ২৪ জনের মধ্যে সর্বনিম্ন ১৯ জন প্রশিক্ষণার্থী এবং কমপক্ষে ১৪ জনের বেশি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এরপর মূল্যায়ন হবে। তাহলে ওই প্রতিষ্ঠানে আমাদের অঝঝঊঞ প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা দেওয়া হবে। এই প্রতিষ্ঠানটি যুক্ত কি না দেখতে হবে।”

তবে প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে পঞ্চগড় স্কিল ডেভেলপমেন্ট একাডেমিী সোমা আক্তার বলেন, “আমরা এখনো পরীক্ষার অনুমতি পাইনি, এজন্যই পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। শীঘ্রই রংপুরে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »