খেলা ডেস্ক: বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) চলতি চক্রে এখনো বাকি ১৫টি সিরিজ। ২৭ সিরিজের এই চক্রের আসল লড়াইটা এখনো সামনে। ২০২৭ সালের ৯ থেকে ১৩ জুন দ্য ওভালে হবে ফাইনাল। সেই দৌড়ে কোন দল কতটা এগিয়ে?
গত দুই চক্রের হিসাব বলে, ফাইনালে উঠতে ৬৫ শতাংশের বেশি পয়েন্ট দরকার। সর্বশেষ চার ফাইনালিস্টের মধ্যে তিন দলই ৬৫ শতাংশ পয়েন্ট পেয়েছে। ব্যতিক্রম ভারত, ২০২৩ সালে ৫৮.৮ শতাংশ পয়েন্ট নিয়েও ফাইনালে উঠেছিল। ২০২৫ সালের ফাইনালে ওঠা দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট ছিল ৬৭ শতাংশের বেশি।
বলে রাখা ভালো, প্রতিটি জয়ের জন্য ১২ পয়েন্ট, ড্র হলে দুই দল ৪ পয়েন্ট করে এবং টাই হলে ৬ পয়েন্ট করে পায়। তবে কোন দল কত পয়েন্ট পেয়েছে সেটি মুখ্য নয়।
কারণ অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও ইংল্যান্ডের মতো দলগুলো ৫ ম্যাচের সিরিজ খেলে থাকে। এই দলগুলোর পয়েন্টও তাই বেশি হয়ে থাকে। তবে মোট পয়েন্টকে ম্যাচের সঙ্গে ভাগ করে শতাংশ বের করা হয়। এই শতাংশের ভিত্তিতে যে পয়েন্ট তালিকা, সেটির শীর্ষ দুই দল ফাইনালে খেলবে।
অস্ট্রেলিয়া
৮ টেস্টে ৭ জয়, ১ হার; পয়েন্ট ৮৭.৫০%
চলতি চক্রে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে অস্ট্রেলিয়া। আট টেস্টে জিতেছে সাতটিতে, হেরেছে একটি। এখন পর্যন্ত ৯৬ পয়েন্টের মধ্যে মাত্র ১২ মিস হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার। দলটির হাতে আছে ১৪ টেস্টে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজের পর প্যাট কামিন্সরা যাবেন দক্ষিণ আফ্রিকায়।
এরপর ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ। সবশেষে ভারত সফরে পাঁচ টেস্ট। ৬০ শতাংশ পয়েন্ট ধরে রাখতে অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছয় জয় ও এক ড্র। আট জয় ও ছয় হার হলে শেষ করবে ৬৮.১৮ শতাংশে। ভারত সফর অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার জন্য সহজ হওয়ার কথা নয়। সেখানে শেষ ১২ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার জয় মাত্র দুটিতে।
দক্ষিণ আফ্রিকা
৪ টেস্টে ৩ জয়, ১ হার; পয়েন্ট ৭৫%
দক্ষিণ আফ্রিকাও শক্ত অবস্থানে আছে। চার টেস্টে তিন জয় ও এক হার। সামনে আরও ১০ টেস্ট। এর আটটিই ঘরের মাঠে। প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা।
৬০ শতাংশে যেতে দরকার আরও ৬৫ পয়েন্ট। পাঁচ জয় ও দুই ড্রতেই তা হয়ে যাবে। ছয় জয় ও চার হার হলে পয়েন্ট হবে ৬৪.২৮ শতাংশ। সাত জয় ও তিন হার হলে ৭১.৪৩ শতাংশ।
নিউজিল্যান্ড
৬ টেস্টে ৪ জয়, ১ হার, ১ ড্র; পয়েন্ট ৭২.২২%
ছয় টেস্টে চার জয়, এক হার ও এক ড্র। নিউজিল্যান্ডও এখন সুবিধাজনক অবস্থানে। তাদেরও বাকি ১০ টেস্ট। ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দেশের মাটিতে খেলবে তারা।
অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ অ্যাওয়েতে। ৬০ শতাংশে যেতে দরকার ৬৪ পয়েন্ট। পাঁচ জয় ও এক ড্রতেই তা সম্ভব। ছয় জয় ও তিন হার হলে পয়েন্ট হবে ৬৪.৫৮ শতাংশ। সাত জয় ও তিন হার হলে ৭০.৮৩ শতাংশে উঠবে নিউজিল্যান্ড। তবে অস্ট্রেলিয়ায় চার টেস্টের সিরিজই হতে পারে তাদের বড় পরীক্ষা।
বাংলাদেশ
৪ টেস্টে ২ জয়, ১ হার, ১ ড্র; পয়েন্ট ৫৮.৩৩%
বাংলাদেশের ম্যাচ বাকি আটটি। চারটি ঘরের মাঠে। প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড। অন্য চারটি বাইরে। সেখানে প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
বাংলাদেশের সামনে ৬০ শতাংশে পৌঁছানোর সুযোগ আছে। ঘরের মাঠে চার টেস্টই জিতলেও অন্তত একটি অ্যাওয়ে টেস্ট জিততে হবে। বিকল্প হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিনটি ড্রও ৬০ শতাংশে নিয়ে যাবে বাংলাদেশকে। তবে ফাইনালের জন্য ৬০ শতাংশ যথেষ্ট নাও হতে পারে। গত দুই চক্রের ফল অন্তত সেটিই বলছে।
ভারত
৯ টেস্টে ৪ জয়, ৪ হার, ১ ড্র; পয়েন্ট ৪৮.১৫%
ভারত এই মুহূর্তে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে। এখন পর্যন্ত নয় টেস্ট খেলে চার জয়, চার হার ও এক ড্র ভারতের। ম্যাচ বাকি নয়টি। শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ অ্যাওয়েতে। ঘরের মাঠে পাঁচ টেস্টের সিরিজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। ৬০ শতাংশে যেতে ভারতের দরকার আরও ৭৮ পয়েন্ট। ছয় জয় ও দুই ড্র হলে হবে ৮০ পয়েন্ট। সাত জয়ে ৮৪।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ঘরের মাঠে ভারত ভালো করতে পারছে না। নিউজিল্যান্ডের কাছে ৩-০ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হেরেছে ভারত। তারপরও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে ভারতের রেকর্ড ভালো। ২০০৮ সালের পর শেষ পাঁচ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১২-২ ব্যবধানে এগিয়ে তারা। বাকি নয় ম্যাচে সাত জয় ও দুই হার হলে ভারতের পয়েন্ট হবে ৬২.৯৬ শতাংশ। আট জয় ও এক হার হলে ৬৮.৫২ শতাংশ।
শ্রীলঙ্কা
৪ টেস্টে ১ জয়, ১ হার, ২ ড্র; পয়েন্ট ৪১.৬৭%
চার টেস্টে একটি জয়, একটি হার ও দুটি ড্র শ্রীলঙ্কার। পয়েন্ট ৪১.৬৭ শতাংশ। বাকি আট টেস্টে প্রতিপক্ষ ভারত, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ৬০ শতাংশে যেতে দরকার আরও ৬৭ পয়েন্ট। পাঁচ জয় ও দুই ড্র অথবা ছয় জয়েই তা সম্ভব। ছয় জয় ও দুই হার হলে পয়েন্ট হবে ৬৩.৮৯ শতাংশ। সাত জয় ও এক হার হলে ৭২.২২ শতাংশ।
ইংল্যান্ড
১৩ টেস্টে ৪ জয়, ৮ হার, ১ ড্র; পয়েন্ট ২৪.৩৬%
ইংল্যান্ডের অবস্থা ভালো নয়। ১৩ টেস্টে চার জয়, আট হার ও এক ড্র। ধীর ওভার রেটের কারণে ১৪ পয়েন্ট কাটাও গেছে। বাকি আছে আট টেস্ট। সব টেস্ট জিতলেও ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ পয়েন্ট হবে ৫৩.১৭ শতাংশ। ফলে ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা খুবই কম।
পাকিস্তান
৬ টেস্টে ২ জয়, ৪ হার; পয়েন্ট ২২.২২%
ছয় টেস্টে দুই জয় ও চার হার পাকিস্তানের। এর সঙ্গে আছে আট পয়েন্টের শাস্তি। সামনে বাকি সাত টেস্ট। সবগুলো জিতলে সর্বোচ্চ ৬৪.১ শতাংশে উঠতে পারবে তারা। ছয় জয় ও এক ড্র হলে পয়েন্ট হবে ৫৮.৯৭ শতাংশ। ছয় জয় ও এক হার হলে ৫৬.৪১ শতাংশ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ
১২ টেস্টে ২ জয়, ৮ হার, ২ ড্র; পয়েন্ট ২০.৮৩%
ওয়েস্ট ইন্ডিজ আছে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে। ১২ টেস্টে মাত্র দুটি জয়। হার আটটি। ড্র দুটি। সামনে বাকি মাত্র দুই টেস্ট। দুটিই বাংলাদেশের বিপক্ষে। দুই ম্যাচ জিতলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বোচ্চ পয়েন্ট হবে ৩২.১৪ শতাংশ। ফাইনালের দৌড় থেকে তাই তারা কার্যত ছিটকে গেছে।



















