• Home
  • বিনোদন
  • শাবনূরের সঙ্গে বিয়ের দাবি যুবকের! ‘স্বপ্নের বাসর’ বলে উড়িয়ে দিলেন নায়িকা
Image

শাবনূরের সঙ্গে বিয়ের দাবি যুবকের! ‘স্বপ্নের বাসর’ বলে উড়িয়ে দিলেন নায়িকা

বিনোদন প্রতিবেদক: কিছুদিন আগের এক সাক্ষাৎকার ঘিরে এবার চটলেন চিত্রনায়িকা শাবনূর। কারণ, সেই সাক্ষাৎকারে রিজভী আহমেদ নামের একজন দাবি করেন তিনি শাবনূরকে ভালোবাসতেন, এমনকি তাঁদের বিয়েও হয়েছিল। শাবনূরের মতে, প্রেম–বিয়ে নিয়ে এসব তথ্য বানোয়াট। এমনকি মজা করে শাবনূর লিখেছেন, ‘তার এসব কথা শুনে মনে হচ্ছে, আমার সঙ্গে তার বাস্তবে কোনো বিয়ে নয়, হয়তো শুধু “স্বপ্নের বাসরই” হয়েছিল।’ ঘটনা কী, কেন চটেছেন শাবনূর?

শাবনূর তাঁর অফিশিয়াল ফেসবুক আইডিতে তাঁর সঙ্গে প্রেমের অভিযোগ প্রসঙ্গে লিখেছেন, ‘অতি সম্প্রতি আরজে নীরবকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিজভী আহমেদ বলেছে, আমার প্রতি তার ভালোবাসার কথা সে নাকি কোনো দিন প্রকাশ করতে পারেনি। তবে মনে মনে নাকি আমাকে এতটাই ভালোবাসত যে আমাকে বিয়ে পর্যন্ত করতে চেয়েছিল এবং এখনো চায়! কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রায় একই সময়ে “সময় টিভি”কে দেওয়া আরেকটি সাক্ষাৎকারে সে আবার দাবি করেছে, আমি নাকি তার এক্স গার্লফ্রেন্ড ছিলাম।’

তবে ঘটনা শুধু এখানেই থেমে থাকেনি। এসব ঘটনায় বেশ হতভম্ব হয়েছেন এই নায়িকা। কারণ, সেই সাক্ষাৎকারে দাবি করা হয়েছে, রিজভীর সঙ্গে শাবনূরের বিয়ে হয়েছে। এ নিয়ে এই নায়িকা লিখেছেন, ‘সে আরও দাবি করেছে যে ২০১৬ সালে আমার সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল এবং ২০১৮ সালে আমাদের ডিভোর্স হয়েছে!’

এ তথ্য কোনোভাবেই সত্য নয় উল্লেখ করেন এই নায়িকা। এ নিয়ে সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমার প্রশ্ন হলো, সে তো ১৯৯৯ সাল থেকেই প্রায় ২৬-২৭ বছর ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছে। তার দাবি অনুযায়ী, ওই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশেই আসেনি। অন্যদিকে আমি ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে কখনোই যুক্তরাজ্যে যাইনি। তাহলে আমার সঙ্গে তার বিয়েটা কোথায় হলো? কীভাবে হলো? এর প্রমাণই–বা কী? আরও মজার বিষয়, সে যে সময়ের কথা বলছে, তার অনেক আগে থেকেই আমি বিবাহিত ছিলাম। তার সঙ্গে সম্পর্ক তো দূরের কথা, তাকে আমি কখনো দেখেছি বলেও মনে পড়ে না, আমি তাকে চিনিই না। তার এসব কথা শুনে মনে হচ্ছে, আমার সঙ্গে তার বাস্তবে কোনো বিয়ে নয়, হয়তো শুধু “স্বপ্নের বাসর”-ই হয়েছিল!’

এই অভিনেত্রীর ফেসবুক পোস্টে ভক্তরা মন্তব্য করে জানিয়েছেন, তাঁর পাশে রয়েছেন। কেউ কেউ লিখেছেন, ‘সত্যটা তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ।’ কেউ লিখছেন, ‘সত্য চাপা থাকে না।’ তবে শাবনূরকে ঘিরে অভিযোগ শুধু প্রেম–বিয়েতেই থেমে থাকেনি। সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেলের মতো প্রসঙ্গও রয়েছে।

এ নিয়ে শাবনূর লিখেছেন, ‘রিজভী আহমেদ প্রবল বিদ্বেষের সঙ্গে দাবি করেছে যে আমি নাকি সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেল করতাম এবং তাঁর আত্মহত্যার জন্য আমাকে দায়ী করেছে। অথচ রিজভীর নাম আমি প্রথম শুনেছি সালমান শাহর মৃত্যুর পর, যখন সে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার ঘটনায় রাজসাক্ষী হয়েছিল। তাহলে প্রশ্ন হলো, সে কীভাবে এবং কোন ভিত্তিতে দাবি করছে যে আমি সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেল করতাম?’

শাবনূর আরও লিখেছেন, ‘রিজভী দাবি করছে, আমি নাকি কূটনামি করতাম বা সালমান ও তাঁর স্ত্রীর একের কথা অন্যের কানে লাগাতাম। এমন ভিত্তিহীন গুজব আরও কিছু অসৎ ব্যক্তি ছড়িয়েছে বলে শুনেছি। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ ধরনের আচরণ কখনোই আমার স্বভাবের মধ্যে ছিল না। আমার পরিবারও আমাকে এমন শিক্ষা দেয়নি। আর এসব করার সময়ও আমার ছিল না। চলচ্চিত্র অঙ্গনের কেউই কোনো দিন বলতে পারবেন না যে আমি কারও সঙ্গে এমন কূটনামি করেছি।’

স্ট্যাটাসে আরও যা উঠে এল

শাবনূর লিখেছেন, ‘সালমান শাহর মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে যে ব্যক্তি রাজসাক্ষী হয়েছিল, তার নাম এই রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ। এই ব্যক্তি অন্য একটি মামলায়, সালমান শাহর ছোট ভাই শাহরান চৌধুরীকে (বিল্টু) অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছিল। ওই জবানবন্দিতে সে দাবি করে যে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ১২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সালমান শাহকে হত্যার পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নে আরও কয়েকজনের সঙ্গে সে জড়িত ছিল। তখন সে প্রায় ৯ মাস কারাগারে বন্দী ছিল। তার নিজের ভাষ্যমতে, কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার কিছুদিন পরই সে যুক্তরাজ্যে দেশান্তরিত হয়।’

শাবনূর আরও লিখেছেন, ‘আশ্চর্যের বিষয়, সালমানের মৃত্যুর দীর্ঘ ২৯ বছর পর অল্প কিছুদিন আগে দুটি পৃথক সাক্ষাৎকারে সে দাবি করেছে, সালমান শাহর মৃত্যু হত্যা নয়, বরং আত্মহত্যা। শুধু তা–ই নয়, সে ওই আত্মহত্যার জন্য সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীকে দায়ী করেছে। পাশাপাশি সে প্রথমবারের মতো আমার বিরুদ্ধেও মিথ্যা অভিযোগ তোলে।’

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »