ফেনী প্রতিনিধি: ফেনীর ছাগলনাইয়ায় সৌদি আরবে পাঠানোর নামে ভিসা, আকামা ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীদের মামা ও ছাগলনাইয়া উপজেলার ৫ নম্বর মহামায়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবু সৈয়দ মেম্বার।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি, এক বছরের আকামা ও নির্ধারিত বেতনের ব্যবস্থা না করে তাঁর দুই স্বজনকে অকার্যকর বা ভুয়া ভিসায় সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে। পরে আকামা করে দেওয়ার আশ্বাসে আরও টাকা নেওয়া হলেও কোনো প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়ন করা হয়নি।
অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে ছাগলনাইয়া উপজেলার উত্তর যশপুর গ্রামের রেজাউল কবির ও তাঁর স্ত্রী জোহরা আক্তার, ফুলগাজী উপজেলার উত্তর ধর্মপুর গ্রামের শাহ জালাল (ইদু) ও তাঁর স্ত্রী সেলিনা আক্তার এবং পরশুরাম উপজেলার চারিগ্রাম গ্রামের মৃত মিজানুর রহমানের ছেলে মো. সুজনকে।
লিখিত বক্তব্যে মো. আবু সৈয়দ বলেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে লোক পাঠানোর কাজের সঙ্গে জড়িত বলে নিজেদের পরিচয় দেন। তাঁদের আশ্বাসে তিনি তাঁর ভাগিনা শাখাওয়াত হোসেন এবং ভাগিনার বন্ধু নুরুন নবীকে সৌদি আরবে পাঠানোর উদ্যোগ নেন।
তিনি জানান, গত ১০ এপ্রিল প্রথম দফায় ২ লাখ টাকা এবং ২৫ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ৮ লাখ টাকা অভিযুক্ত রেজাউল কবিরের স্ত্রী জোহরা আক্তার ও শাহ জালালের স্ত্রী সেলিনা আক্তারের কাছে প্রদান করা হয়। পরে ১৫ মে দুই যুবককে সৌদি আরবের মদিনায় পাঠানো হলেও সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, প্রতিশ্রুত চাকরি, বেতন ও এক বছরের আকামার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। পরে আকামা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আরও ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হলেও সেই প্রতিশ্রুতিও পূরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মো. আবু সৈয়দ আরও বলেন, অভিযুক্তরা প্রথমে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে নানা অজুহাতে টালবাহানা শুরু করেন। এমনকি সৌদি আরবে অবস্থানরত তাঁর দুই স্বজনকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, বর্তমানে তারা সেখানে চরম অনিশ্চয়তা ও মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য এবং একই কৌশলে আরও অনেকের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন।
মো. আবু সৈয়দ জানান, এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গত ২৯ জুলাই ছাগলনাইয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
















