আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি : চলতি বোরো মৌসুমে (২০২৬ অর্থ বছর) সারা দেশের মত আদমদীঘি উপজেলায়ও ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম চলছে। এই সংগ্রহ কার্যক্রমে নীতিমালা মানছেন না খোদ খাদ্য কর্মকর্তারা। উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রথম দফায় ৩৬ টাকা কেজি দরে এক হাজার একশত ৯৭ মেট্টিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। পরে সেটা বৃদ্ধি করা হয়েছে প্রায় সমপরিমান। সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৭৬২ মেট্টিক টন। উপজেলার একশত তিনটি অটোমেটিক, সেমি-অটোমেটিক ও হাস্কিং চালকলের মাধ্যমে ওই পরিমান সিদ্ধ চাল ও দুই চালকলের মাধ্যমে প্রায় এক হাজার মেট্টিক টন আতব (অসিদ্ধ) চাল সংগ্রহ কার্যক্রম চলছে । সরকারি ভাবে প্রতি কেজি সিদ্ধ চাল কেনা হচ্ছে ৪৯ টাকা এবং অসিদ্ধ চাল কেনা হচ্ছে ৪৮ টাকা কেজি দরে। উপজেলার সান্তাহার সিএসডি, সান্তাহার, উপজেলা সদর ও উপজেলার নসরতপুর এলএসডিতে এই সংগ্রহ কার্যক্রম চলছে। মৌসুমের ১৭ মে সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে ৩১ আগস্ট/২০২৬ পর্যন্ত। ইতিমধ্যে সিংহভাগ চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবার পর থেকে সরেজমিন দেখা গেছে খাদ্য শস্য সংগ্রহ নীতিমালা অমান্য করে চলেছেন খাদ্য কর্মকর্তারা। খাদ্য শস্য সংগ্রহ নীতিমালায় বিভিন্ন ধারা ও উপ-ধারা রয়েছে। সংগ্রহ নীতিমালা মোতাবেক উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃক সম্পুর্ন চালু অবস্থায় থাকা অটোমেটিক, সেমি-অটোমেটিক ও হাস্কিং চালকলের তালিকা (পাক্ষিক) তৈরি করে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে পাঠাবেন। এর ভিত্তিতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মিল ভিত্তিক বিভাজন তৈরি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দপ্তরে পাঠাবেন। এর পর চুক্তি করার জন্য উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মিল ভিত্তিক ফরোয়ার্ডিং পাঠাবেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দপ্তরে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের করা পাক্ষিক ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অনুমোদিত বিভাজন তালিকা যাচাই করে ৮২টি হাস্কিং চালকলের মধ্যে প্রায় দেড়ডজন চালকল সরেজমিন পরিদর্শনে চালু অবস্থায় দেখা যায়নি। নীতিমালা মোতাবেক খাদ্য পরিদর্শক/ উপ-পরিদর্শক বা দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা/কর্মচারি কর্তৃক উৎপাদনে থাকা চালকল পরিদর্শন করে চালের মান সংক্রান্ত প্রত্যয়ন পত্র দিতে হবে। কিন্তু আদমদীঘিতে সে নীতিমালা অনুসরণ না করে সরকারি খাদ্য গুদাম তথা ক্রয়কেন্দ্রে বসে প্রত্যয়ন পত্র দিতে দেখা যায়। এদিকে খাদ্য শস্য সংগ্রহ নীতিমালার একটি গুরুত্বপুর্ণ উপধারা উপজেলার সান্তাহারের বৈশাখী গ্রুপের অটোমেটিক চালকলের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার বিষয়টি অমান্য করে চলেছেন খাদ্য কর্মকর্তারা। ওই উপধারায় বলা আছে ‘আনীত চাল দৃশ্যত: বিনির্দেশ বহির্ভুত হলে ক্রয়কেন্দ্রের কর্মকর্তা নমুনা সংরক্ষণ করে তা ফেরত দিবেন। কোন মিলের চাল একাধিক বার বিনির্দেশ বহির্ভুত হিসাবে প্রত্যাখ্যাত হলে সম্পাদিত চুক্তি ও বরাদ্দ বাতিল হবে’। কিন্তু অটোমেটিক চালকলের আনীত চাল ইতিমধ্যে প্রায় ২০ বার প্রত্যাখ্যাত হবার পরও চুক্তি ও বরাদ্দ বহাল রাখা হয়েছে এবং অব্যহত রাখা হয়েছে সংগ্রহ কার্যক্রম।
এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে আদমদীঘি উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক খন্দকার আবুল বাশার বলেন, বরাদ্দ বাতিল করার কর্তৃপক্ষ ডিসি ফুড, তাকে জিজ্ঞেস করুন বলে জানান। বিষয়টি নিয়ে ডিসি ফুড বলেন, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মহোদয় এবিষয়ে কোন রিপোর্ট করেনি। উনি বাতিল করার সুপারিশ করে পাঠালে আমরা সংগ্রহ কমিটির মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিতে পারি। বিষয়টি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে অবহিত করা হলে তিনি বলেন, আমার কাছে ওসি/এলএসডি লিখলে আমি ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অগ্রগামী করবো। এবিষয়ে বৈশাখী গ্রুপের মালিক ইসমাইল হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সান্তাহার এলএসডি ক্রয়কেন্দ্র থেকে তাঁর পাঠানো বিনির্দেশ বহির্ভুত চালবাহী ট্রাক ফেরত পাঠানোর বিষয়টি স্বীকার করলেও ফেরতের সংখ্যা নিয়ে দ্বি-মত পোষণ করে বলেন শুধু আমার নয়, অন্য মিলারের চালের ট্রাকও ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে দাবী করেন।সরকারের খাদ্য শস্য সংগ্রহ নীতিমালার অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে উপজেলা ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক একে অপরকে দেখিয়ে দিয়ে স্ব স্ব দায়ীত্ব এড়িয়ে সংগ্রহ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।













