একটি ‘দ্রুত’ চুক্তি সম্পাদনের শর্তে শেষ মুহূর্তে ইরানের ওপর সম্ভাব্য তীব্র সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির তথ্য প্রকাশ করা হয়। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, বিশ্বের ভবিষ্যৎ শান্তি এবং একই সঙ্গে একটি সফল ও সমৃদ্ধ ইরানের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে তিনি এই হামলা বাতিল করতে সম্মত হয়েছেন। তবে এর বিনিময়ে তেহরানকে অবিলম্বে একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তিতে উপনীত হতে হবে বলে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন।
এর আগে মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন চলতি সপ্তাহেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে তীব্র হামলা চালানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছিল। গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানের ওপর এমন কঠোর হামলা চালানো হবে যেন তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই থামিয়ে দিতে বাধ্য হয়। বিশেষ করে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে যেকোনো মুহূর্তে এই হামলা চালানো হতে পারে বলে ইসরায়েলি সামরিক কমান্ডারদের ধারণা ছিল।
ট্রাম্পের এই কঠোর হুমকির পর থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ব্যাপক যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়। তেহরানও এই উত্তেজনার জন্য ওয়াশিংটনকে দায়ী করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। ইরান স্পষ্ট ভাষায় জানায়, ওয়াশিংটনকে সহায়তা করা যেকোনো আঞ্চলিক রাষ্ট্র যুদ্ধের দাবানলে ধ্বংস হয়ে যাবে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মার্কিন সরকারও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজনে দ্রুত এলাকা ছাড়ার প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেয়।
মার্কিন বিমান হামলার আশঙ্কায় ইসরায়েলও নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ও চ্যানেল-১২-এর সূত্রমতে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান সরাসরি ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে—এমন শঙ্কা থেকে তারাও পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি সেরে রেখেছিল। সংঘাত একেবারে ‘বিস্ফোরিত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে’ পৌঁছালেও ট্রাম্পের চুক্তি করার শর্তমূলক এই সিদ্ধান্তে সাময়িকভাবে বড় ধরণের সামরিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হলো বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। তথ্যসূত্র: বিবিসি














