• Home
  • দেশ
  • রাজশাহীতে অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক নিষিদ্ধ ও বিক্রি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
Image

রাজশাহীতে অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক নিষিদ্ধ ও বিক্রি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

নাজিম হাসান,রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি: নিষিদ্ধ ও বিপজ্জনক বালাইনাশক ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক পর্যায়ক্রমে নিষিদ্ধের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টার দিকে মহানগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক, বরেন্দ্র যুব ফোরাম ও সবুজ জোটের যৌথ ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে কৃষক-কৃষাণি, পরিবেশকর্মী, যুব প্রতিনিধি, গবেষক, নাগরিক সমাজের সদস্য এবং বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ গ্রহন করে।

এসময় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,রাজশাহীর বিভিন্ন কীটনাশকের দোকানে অবাধে বিক্রি হচ্ছে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ও বিপজ্জনক বালাইনাশক ওষুধ। এসব ওষুধ ব্যবহারের ফলে কৃষক ও সাধারণ ব্যবহারকারীরা সরাসরি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়না। রাসায়নিক কীটনাশক শুধু ক্ষতিকর পোকামাকড় নয়, মানুষ, মৌমাছি, মাছ, পাখি, মাটি, পানি এবং সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক ক্যান্সার, হরমোনজনিত জটিলতা, প্রজনন স্বাস্থ্যঝুঁকি, স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি এবং পরিবেশ দূষণের মতো গুরুতর সমস্যার কারণ হতে পারে। নিষিদ্ধ ওষুধ ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অন্তত ৬৮ শতাংশ ব্যবহারকারী। আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো, ৯৩.৩৭ শতাংশ ব্যবহারকারী জানেনই না যে তারা যেসব কীটনাশক ব্যবহার করছেন তা নিষিদ্ধ এবং মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বক্তারা আরও বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ কৃষি ব্যবস্থা স¤প্রসারণে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। বাংলাদেশকেও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। মানববন্ধন থেকে ১৫ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে,দেশে ব্যবহৃত সব কীটনাশকের বৈজ্ঞানিক পুনর্মূল্যায়ন, অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক পর্যায়ক্রমে নিষিদ্ধ, খাদ্যে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পরীক্ষার জাতীয় ব্যবস্থা জোরদার, প্রকৃতিনির্ভর কৃষি স¤প্রসারণ, কৃষকদের নিরাপদ বিকল্প প্রযুক্তিতে ভর্তুকি ও প্রশিক্ষণ, মৌমাছি ও অন্যান্য পরাগায়নকারী প্রাণী সংরক্ষণ, জাতীয় বিষক্রিয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু এবং প্রকৃতিনির্ভর কৃষিতে রূপান্তরের জন্য জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »