• Home
  • দেশ
  • কাউনিয়ায় হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি, অতিষ্ঠ ব্যবসায়ী ও পথচারীরা
Image

কাউনিয়ায় হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি, অতিষ্ঠ ব্যবসায়ী ও পথচারীরা

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ রংপুরের কাউনিয়ায় পথে হাটে ঘাটে বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছে সার্কাসের হাতি। এতে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে পারছে না শিক্ষার্থী, পথচারীসহ কোনো যানবাহন। পিঠে বসে থাকা মাহুত হাতির শুঁড় দিয়ে বিভিন্ন দোকানের ব্যবসায়ী, পথচারীদের ও গাড়ি চালকদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করছেন। হাতির শুঁড় এগিয়ে দিচ্ছে তাদের কাছে। শুঁড়ের মাথায় টাকা গুজে দিলেই মাহুতের ইশারায় সরে যায় হাতিটি। ব্যবসায়ী ও পথচারীদেরকে জিম্মি করে হাতি দিয়ে চলছে চাঁদাবাজি। পথচারীরা ভয়েই টাকা বের করে দেয়। আবার হিন্দু ধর্মালম্বিরা নিজেথেকেই টাকা দিচ্ছেন।

উপজেলার তকিপলহাট, বালিকা বিদ্যালয় মোড় সহ বিভিন্ন বাজার সড়ক ঘুরে ঘুরে হাতি দিয়ে টাকা তুলছেন মাহুত। টাকা না দিলে পথচারীদের যেতে দেওয়া হয় না। শুঁড়ে টাকা দিলেই যেতে দেওয়া হয় সবাইকে। এ ধরনের রাস্তায় বাজারে হাতি দিয়ে চাঁদাবাজির ঘটনা অহরহ ঘটছে। বাজারের কিছু ব্যবসায়ীরা বলেন, মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন এলাকা থেকে হাতি নিয়ে এসে চাঁদা আদায় করা হয়। বিষয়টি দেখার কেউ নেই।

বুলবুল সার্কাসের হাতির মাহুত ছাইদুর বলেন, আমি বগুড়া থেকে এসে রংপুরের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছি। বর্তমানে সার্কাস ভাল চলে না, হাতির খাবারের জন্য রাস্তায় রাস্তায় পথচারীদের ও বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকি। যে যা দেয় তা নিয়েই চলে আসি। জোর করে টাকা আদায় প্রসঙ্গে তিনি জানান, জোর করে কোনো টাকা নিচ্ছি না, খুশি হয়ে যে যা দেয় তাই আমি নিচ্ছি। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪ থেকে ৫হাজার টাকা তোলা সম্ভব হয়।

স্বচ্ছ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শাহ মোবাশে^রুল ইসলাম রাজু জানান, মাহুত কারও কাছ থেকে অবশ্য জোর করে কোন টাকা নিচ্ছে না। তবে হাতিটির যে অবস্থা তাতে মনে হচ্ছে ভাল ভাবে খাওয়া দেয়া হয় না।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ এআরএম আল মামুন জানান, হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি একটি সুনির্দিষ্ট অপরাধ এবং বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার পাপিয়া সুলতানা জানান, লোকমুখে এ ধরনের চাঁদাবাজির কথা শুনেছি। তবে কেউ সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী ব্যক্তিগতভাবে বন্যপ্রাণী খাঁচায় রাখা, লালন-পালন বা অনুমোদন ছাড়া বাণিজ্যিক ও উপার্জনের কাজে ব্যবহার দÐনীয় অপরাধ হলেও এর কার্যকর প্রয়োগ নেই।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »