বিশ্বকাপের দামামা বেজেছিল অনেক আগেই। সেই উত্তাপে কেঁপেছিল ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়, রঙে রঙিন হয়েছিল শহর থেকে গ্রাম। দেখতে দেখতে শেষ হয়ে গেছে প্রথম পর্বের লড়াই। কারও স্বপ্ন থেমে গেছে গ্রুপ পর্বেই, আবার কেউ বুকভরা আশা নিয়ে পা রেখেছে নতুন যুদ্ধে।
ফলে গ্রুপ পর্বের পালা শেষ করে বিশ্বমঞ্চ এখন প্রবেশ করছে সম্পূর্ণ নতুন এক নকআউট পর্বে, যার নাম ‘রাউন্ড অব ৩২’ বা শেষ বত্রিশের লড়াই। শনিবার (২৭ জুন) আলজাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
১০৯ ম্যাচের মহারণে শেষ হয়েছে প্রথম ৭০টি অধ্যায়। এবার ভুলের আর কোনো সুযোগ নেই। এখন থেকে প্রতিটি ম্যাচই বাঁচা-মরার লড়াই, প্রতিটি বাঁশিই লিখবে নতুন ইতিহাস, কিংবা ভেঙে দেবে কোটি সমর্থকের হৃদয়। নকআউট পর্বের রোমাঞ্চে বিশ্বকাপের আসল যুদ্ধ শুরু হচ্ছে।
আগামী ২৮ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত চলবে মাঠের এই নতুন মহারণ।নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী, ১২টি গ্রুপের প্রতিটির শীর্ষ দুটি দল সরাসরি জায়গা করে নিয়েছে এই পর্বে। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে গ্রুপ পর্বের সেরা আটটি ‘তৃতীয় স্থান’ অধিকারী দল।
প্রথাগত পরাশক্তিদের পাশাপাশি কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের মতো দলগুলোর ঐতিহাসিক চমক এই রাউন্ডকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
প্রথম ম্যাচেই মাঠে নামবে স্বাগতিক কানাডা। প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকবে দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর প্রতিদিনই রয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ ও তুমুল উত্তেজনায় ভরপুর একেকটি ম্যাচ।
রাউন্ড অব ৩২-এর সময়সূচি ও সূচি (বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী):
২৯/৬/২০২৬
কানাডা-দক্ষিণ আফ্রিকা (দিবাগত রাত ১টা)
ব্রাজিল-জাপান (রাত ১১টা)
৩০/৬/২০২৬
জার্মানি-প্যারাগুয়ে (দিবাগত রাত ২টা ৩০ মিনিট)
নেদারল্যান্ডস-মরক্কো (সকাল ৭টা)
আইভোরিকোস্ট-নরওয়ে (রাত ১১টা)
১/৭/২০২৬
ফ্রান্স-সুইডেন (দিবাগত রাত ৩টা)
মেক্সিকো-ইকুয়েডর (সকাল ৭টা)
ইংল্যান্ড-ডিআর কঙ্গো (রাত ১০টা)
২/৭/২০২৬
বেলজিয়াম-সেনেগাল (দিবাগত রাত ২টা)
যুক্তরাষ্ট্র-বসনিয়া অ্যান্ড হারজেবগোভিনা (ভোর ৬টা)
৩/৭/২০২৬
স্পেন- অস্ট্রিয়া (দিবাগত রাত ১টা)
পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া (ভোর ৫টা)
সুইজারল্যান্ড-আলজেরিয়া (সকাল ৯টা)
৪/৭/২০২৬
অস্ট্রেলিয়া-মিশর (দিবাগত রাত ১২টা)
আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে (দিবাগত রাত ৪টা)
কলম্বিয়া-ঘানা (সকাল ৭টা ৩০ মিনিট)
উল্লেখ্য, নকআউট পর্বের এই লড়াইগুলো হবে ‘সিঙ্গেল-এলিমিনেশন’ বা সরাসরি বিদায়ের নিয়মে। অর্থাৎ, প্রতি ম্যাচেই এক দলকে জিততে হবে এবং হারলেই বিদায়। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে যদি ম্যাচ টাই বা ড্র থাকে, তবে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট (১৫ মিনিট করে দুই অর্ধে) খেলা হবে। এরপরও যদি দুই দলের স্কোর সমান থাকে, তবে ম্যাচের ভাগ্য ও পরবর্তী রাউন্ডের টিকিট নির্ধারিত হবে টাইব্রেকার বা পেনাল্টি শুটআউটের মাধ্যমে।

















