সংযুক্ত আরব আমিরাত হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন একটি তেল পাইপলাইন নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির সরকার জানিয়েছে, আগামী বছরের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে আঞ্চলিক সংঘাত বা অবরোধের কারণে তেল রপ্তানিতে বিঘ্ন না ঘটে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, নতুন পাইপলাইনটি আমিরাত থেকে ফুজাইরাহ বন্দরে তেল পরিবহন করবে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে এটি পুরোপুরি চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে আগে বৈশ্বিক তেল ও সমুদ্রপথে পরিবাহিত গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন হতো। তবে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা ও অবরোধ পরিস্থিতির কারণে এই রুটে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
আমিরাতের যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানিকে দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বর্তমানে চালু থাকা হাবশান-ফুজাইরাহ পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৮ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা সম্ভব। নতুন পাইপলাইন যুক্ত হলে এই সক্ষমতা দ্বিগুণ হয়ে প্রায় ৩৬ লাখ ব্যারেলে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিকল্প রপ্তানি পথ তৈরির কৌশলগত প্রয়োজন থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমিরাত। বিশেষ করে ইরান-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রায় ৬০ বছর সদস্য থাকার পর জোট ছাড়ার এই পদক্ষেপকে সৌদি আরবের সঙ্গে নীতিগত মতপার্থক্যের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
নতুন পাইপলাইন চালু হলে ভবিষ্যতে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলেও বা হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক বাণিজ্য ব্যাহত হলেও আমিরাত তাদের তেল রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



