চট্টগ্রামের বর্ষীয়ান রাজনীতিক, সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ১১টায় নগরের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই জানাজায় অংশ নেন হাজারো মানুষ। পরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানান রাজনৈতিক সহচর ও অনুসারীরা।
জানাজায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, প্রয়াতের বড় ছেলে সাবেদুর রহমান সমুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জানাজার আগে মরদেহের কফিন জমিয়াতুল ফালাহ প্রাঙ্গণে পৌঁছালে তাকে একনজর দেখতে মানুষের ঢল নামে। ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় বর্ষীয়ান এই নেতার কফিন।
চসিক মেয়র ও বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, “ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ছিল। বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়নে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।” জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “চট্টগ্রামের ইতিহাসে মোশাররফ হোসেন এক অবিস্মরণীয় নাম হয়ে থাকবেন।”
১৯৪৩ সালে মিরসরাইয়ের ধুম গ্রামে জন্ম নেওয়া মোশাররফ হোসেন লাহোরে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ১ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার ছিলেন।
১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম এই নেতা মীরসরাই আসন থেকে মোট ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন মেয়াদে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। আমৃত্যু তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ১৪ আগস্ট জামিনে মুক্তি পান। দীর্ঘদিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
জমিয়াতুল ফালাহ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে কফিনবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি মিরসরাইয়ের ধুম গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। সেখানে বাদ আসর ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।



