রপ্তানি সক্ষমতা সূচকে ভারত ও ভিয়েতনামের চেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ

0
3

উচ্চ পরিবহন ব্যয়, ধীরগতির বন্দর কার্যক্রম এবং দুর্বল লজিস্টিক ব্যবস্থার কারণে বৈশ্বিক রপ্তানি প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত সংস্কার ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো গড়ে তোলা না গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের অবস্থান আরও দুর্বল হতে পারে।

শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। “বাণিজ্যনির্ভর বাংলাদেশের জন্য সমন্বিত বন্দর ও লজিস্টিক খাতের উন্নয়ন” শীর্ষক ওই আলোচনায় দেশের বর্তমান বাণিজ্য পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক লজিস্টিক সক্ষমতা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৮তম। একই তালিকায় ভারত রয়েছে ৩৮তম এবং ভিয়েতনাম ৪৩তম স্থানে। কাস্টমস কার্যক্রম, অবকাঠামো উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন, সময়নিষ্ঠতা ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থাসহ প্রায় সব সূচকেই বাংলাদেশ প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম মাসরুর রিয়াজ। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বড় ভিত্তি এখন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ হলেও উচ্চ লজিস্টিক ব্যয় বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে সীমিত করে রাখছে।

তার মতে, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী বন্দরে পণ্য খালাসে যেখানে এক থেকে তিন দিন সময় লাগে, সেখানে বাংলাদেশে গড়ে প্রায় ১১ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং রপ্তানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন।

ড. মাসরুর রিয়াজ আরও বলেন, লজিস্টিক ব্যয় ২৫ শতাংশ কমানো গেলে দেশের রপ্তানি প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এছাড়া পরিবহন ব্যয় সামান্য কমলেও রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আলোচনায় বক্তারা চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম আরও আধুনিক ও দ্রুত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তারা বলেন, বন্দর ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তি, এআই, ব্লকচেইন ও পেপারলেস কাস্টমস চালু করা গেলে পণ্য খালাসের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।

ঢাকা চেম্বারের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী বলেন, দেশের সরবরাহ ব্যবস্থায় সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। সড়কপথে যানজট, রেলভিত্তিক পণ্য পরিবহনের সীমাবদ্ধতা এবং কোল্ড-চেইন সুবিধার ঘাটতি ব্যবসায়িক ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পুরোপুরি চালু হলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। একই সঙ্গে রেল ও সড়কভিত্তিক সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুললে দেশের রপ্তানি আয় আরও বাড়ার সুযোগ রয়েছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY