১৫ বছর পর পশ্চিমবঙ্গের শাসনক্ষমতায় ঘটছে ফের পালাবদল। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এ ওপার বাংলার তারকাদের মধ্যে চমক দেখালেন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। অন্যদিকে পরাজয়ের স্বাদ পেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী দুই তারকা সোহম চক্রবর্তী ও সায়ন্তিকা বন্দোপাধ্যায়।
দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস এবার নির্বাচনে বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। দলের হয়ে লড়াই করে হেরে গেছেন জনপ্রিয় দুই মুখ সোহম ও সায়ন্তিকা। অন্যদিকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে জয় পেয়েছেন রুদ্রনীল।
রুদ্রনীলের রাজনৈতিক পথচলা বেশ নাটকীয়। ছাত্রজীবনে বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ হন। পরবর্তীতে ২০২১ সালের আগে অমিত শাহের উপস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। আগের নির্বাচনে পরাজিত হলেও এবারে নিজের ঘাঁটি শক্ত করে জয়ের দেখা পেলেন।
হাওড়ার শিবপুর কেন্দ্র থেকে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছেন রুদ্রনীল। তৃণমূল প্রার্থী রানা চট্টোপাধ্যায়কে প্রায় ১৬ হাজার ভোটে হারিয়ে এই আসনে বিজেপির পতাকা উড়িয়েছেন তিনি।
এদিকে নদিয়ার করিমপুর কেন্দ্রে শুরুতে এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখতে পারেননি সোহম চক্রবর্তী। ভোট গণনা যত এগিয়েছে, ততই কমেছে তার লিড। শেষ পর্যন্ত বিজেপি প্রার্থী সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ এগিয়ে গিয়ে জয় নিশ্চিত করেন। প্রায় ১০ হাজারের বেশি ভোটে হারতে হয়েছে সোহমকে।
অন্যদিকে, উপনির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করা সায়ন্তিকা বন্দোপাধ্যায় এবার একই কেন্দ্রে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষের কাছে প্রায় ১৬ হাজারের বেশি ভোটে হার মানতে হয়েছে তাকে।
এছাড়া শ্যামপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন বিজেপির হিরণ চট্টোপাধ্যায়। তবে পরাজিত হয়েছেন ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী নির্মাতা রাজ চক্রবর্তী এবং রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সঙ্গীতশিল্পী অদিতি মুন্সী।



