কাউনিয়ার কুমড়া রফতানী হচ্ছে বিভিন্ন জেলায়

0
4

তিস্তার চরে বাম্পার ফলন ও দাম পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় তিস্তা নদীর চরে দিন দিন বাড়ছে কুমড়া চাষ। চরাঞ্চলের অনাবাদি জমিকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় কৃষকরা এখন লাভজনক ফসল হিসেবে কুমড়া চাষে ঝুঁকছেন। এতে যেমন বাড়ছে তাদের আয়, তেমনি কর্মসংস্থানের সুযোগও সুষ্টি হচ্ছে। কৃষি অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে তিস্তার চরাঞ্চল।

সরেজমিনে উপজেলার তালুকশাহবাজ চরসহ বিভিন্ন চর এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ বালুচরে সারি সারি কুমড়ার লতা ছড়িয়ে আছে। সবুজ লতার ফাঁকে ঝুলছে হলুদ-সবুজ রঙের পাকা কুমড়া। নিজপাড়া গ্রামের কুমড়া চাষী হাফিজুর রহমান জানান কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় তার মতো শতাধিক চাষি এই চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তালুকশাহবাজ গ্রামের কুমড়া চাষী মনিরুল ইসলাম বলেন আগে এই চর জমি প্রায় পরিত্যক্ত ছিল। এখন কুমড়া চাষ করে ভালো লাভ পাচ্ছে চাষিরা। কুমড়া চাষ করে প্রতি মৌসুমে খরচ বাদ দিয়ে উল্লেখযোগ্য আয় হচ্ছে। তিস্তার ধু-ধু বালুচরে ফসল ফলানো বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার হলেও রোদ বৃষ্টি ঝড়ে রোদে পুরে কৃষি অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ও নিজেদের ডাল ভাত জোগাতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে কয়েক বছর ধরে বালুচরে কুমড়া চাষ করে আসছে চাষিরা। কৃষকরা জানান তিস্তা চরের মিষ্টি কুমড়ার স্বাদ বেশি হওয়ায় ঢাকার কাওরান বাজার দখল করেছে সেই সাথে খুলনা, যশোর, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তিস্তা চরের মিষ্টি কুমড়া বাজারজাত করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১৭টি চরে ২৭৬ জন প্রান্তিক চাষি ১১৫ হেক্টর জমিতে কুমড়া চাষ করেছেন। তিস্তার চরাঞ্চলের মাটি কুমড়া চাষের জন্য বেশ উপযোগী। বিশেষ করে বালুময় মাটিতে পানি দ্রæত নিষ্কাশন হওয়ায় গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়। ফলে ফলনও হয় বেশি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আকতার বলেন, আমরা কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করলে কুমড়া আরও লাভজনক হতে পারে। তবে কিছু সমস্যার কথাও জানিয়েছেন কৃষকরা। তারা বলেন, চরাঞ্চলে যাতায়াত ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় উৎপাদিত কুমড়া বাজারজাত করতে অনেক সময় ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এছাড়া হঠাৎ বন্যা বা নদীভাঙনের ঝুঁকিও রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কাউনিয়ার তিস্তার চরে কুমড়া চাষ এখন সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি সহায়তা ও বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করা গেলে এই খাত থেকে আরও বেশি লাভবান হতে পারবেন কৃষকরা।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY