আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে মিত্রদেশগুলোকে যুদ্ধ জাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু তার এ আহ্বানে কোনো সাড়া মিলছে না, বরং প্রত্যাখ্যাত হচ্ছেন ট্রাম্প।
সুইজারল্যান্ডের সরকার ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের করা দুটি সামরিক ওভার ফ্লাইট অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে।শনিবার (১৪ মার্চ) দেশটির ফেডারেল কাউন্সিলের বিবৃতির ভিত্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।
দেশটির ফেডারেল কাউন্সিল জানায়, নিরপেক্ষতার আইন উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের করা দুটি সামরিক উড্ডয়ন অনুরোধ নাকচ করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি রক্ষণাবেক্ষণ ফ্লাইট এবং পরিবহণ বিমানের দুটি ওভার ফ্লাইট অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক আইন ও সুইজারল্যান্ডের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষতা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের আহ্বানের পর ফ্রান্সের নৌবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে ১০টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর ছড়িয়েছিল। পরে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়নি। রণতরি পূর্ব ভূমধ্যসাগরেই অবস্থান করছে। ফ্রান্সের অবস্থান অপরিবর্তিত। আত্মরক্ষামূলক ও সুরক্ষামূলক।ট্রাম্পের আহ্বানের পর বিশ্বের দুই শক্তিধর দেশ চীন ও যুক্তরাজ্য তাদের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের একজন মুখপাত্র সরাসরি যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য না দিলেও বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতির দ্রুত অবসান কামনা করেছেন। সিএনএনকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সব পক্ষের দায়িত্ব। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং কৌশলগত অংশীদার হিসেবে চীন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে এবং উত্তেজনা প্রশমনে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে।
চীনের এই অবস্থান থেকে বোঝা যায় যে, তারা সরাসরি সামরিক পদক্ষেপে জড়ানোর চেয়ে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সংকট সমাধানের পক্ষপাতী।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা মিত্র এবং অংশীদারদের সঙ্গে বিভিন্ন বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে। তবে ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তারা নতুন করে কোনো যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করবে কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি ব্রিটিশ সরকার।
মূলত ইরান কর্তৃক এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধের হুমকির পর বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসন এখন আন্তর্জাতিক মিত্রদের সরাসরি সামরিক সহায়তা চাইছে।
শনিবার নিজের মালিকাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প আহ্বান জানান।পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার প্রচেষ্টায় যেসব দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে যুদ্ধ জাহাজ পাঠাবে।তিনি বলেন, তিনি আশা করেন যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং অন্যান্য দেশ ওই এলাকায় জাহাজ পাঠাবে।
ট্রাম্প দাবি করেন, “আমরা ইতোমধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা শতভাগ ধ্বংস করেছি। তবে তারা যতই পরাজিত হোক না কেন, এই জলপথে ড্রোন, মাইন বা স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালাতে পারে।”তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির উপকূলজুড়ে হামলা চালিয়ে ইরানি নৌযানগুলোকে ধ্বংস করবে যুক্তরাষ্ট্র।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধের বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরান এই পথটি পুরোপুরি বন্ধ করেনি। বরং শুধুমাত্র আমেরিকা ও ইসরাইলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজ এবং ট্যাঙ্কারের জন্য এই পথটি অবরুদ্ধ রাখা হয়েছে। অন্যান্য দেশের নৌযান চলাচলের জন্য এই রুটটি আগের মতোই উন্মুক্ত রয়েছে। মূলত সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।



