রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭, চুয়াডাঙ্গায় ৭.৫ ডিগ্রি

0
31

অনলাইন ডেস্ক: শীতে কাপছে চুয়াডাঙ্গা ও রাজশাহী। দুই জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্য প্রবাহ হয়ে যাচ্ছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টায় চুয়াডাঙ্গা তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি, এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। এটায় এ মৌসুমে চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

গত রোববার চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত দুদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা কমেছে ৩ ডিগ্রী। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, কয়েকদিন ধরে চুয়াডাঙ্গায় প্রচন্ড শীত। আমরা রাতে ঘুরে ঘুরে দরিদ্র ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ অব্যাহত রেখেছি। আরো তিন হাজার কম্বল কেনার বরাদ্দ এসেছি। এই টাকা দিয়ে কম্বল কেনার প্রক্রিয়া চলমান।

গতকাল সোমবার সকাল আটটার দিকে সূর্য উকি দিলেও ছিল না উত্তাপ। সকাল দশটার দিকে আবার সূর্য ডুবে যায়। এর মধ্যেই উত্তরের হিম শীতল বাতাস শীত বাড়িয়েছে দ্বিগুণ মাত্রায়।

মাঠে কাজ করতে যাওয়া কৃষি শ্রমিক মোফাজ্জল বলেন, ভোরে মাঠে নামতে খুব কষ্ট হচ্ছে। ঠান্ডায় হাত ঠিকমতো চলে না। বাতাস থাকায় শীত আরো বেশি লাগছে। তারপর কাজ না করলে চলে না।

আরেক দিন মজুর শফিকুল ইসলাম বলেন, সকাল বেলা এত ঘন কুয়াশা থাকে যে কিছুই দেখা যায় না। তবুও কাজের সন্ধানে বের হতে হচ্ছে। কনকনে ঠান্ডায় কাজ করতে কষ্ট হয়।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান,আজ ৬ জানুয়ারি সকাল ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ।

এদিকে রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গতকালের (সোমবার) চেয়ে আজ একদিনেই ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমে গেছে। ফলে রাজশাহীতে চলতি মৌসুমে সর্বনিম্ন তারমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকালজুড়ে কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া বিরাজ করলেও কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি।

আবহাওয়া অফিস জানায়, সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজশাহীতে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে, বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) সকালে এক ফেসবুক পোস্টে জানায়, আজকেও দেশ কুয়াশা বেল্টে ঠেকে আছে। দুপুরের আগে রোদের দেখা মিলবে না অনেক এলাকায়।

‘রংপুর রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় দুপুরের আগেই সূর্যের দেখা মিলতে পারে। তবে বরিশাল, ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় সারাদিন আকাশ কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকতে পারে।’

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলতি মাসে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দুই-তিনটি শৈত্যপ্রবাহ হবে মৃদু থেকে মাঝারি (৮-১০ ডিগ্রি থেকে ৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এবং এক-দুইটি শৈত্যপ্রবাহ হবে মাঝারি থেকে তীব্র (৬-৮ ডিগ্রি থেকে ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস)।

এ ছাড়া চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে কোনো ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে, স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকতে পারে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, জানুয়ারিতে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদ-নদী অববাহিকাসহ দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরণের কুয়াশা পড়তে পারে। তবে, কখনও কখনও কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে দিন এবং রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে শীতের অনুভূতি বৃদ্ধি পেতে পারে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY