• Home
  • দেশ
  • পঞ্চগড়ে আমন ধানের বাম্পার ফলন, বিস্তৃণ বনানী জুড়ে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন
Image

পঞ্চগড়ে আমন ধানের বাম্পার ফলন, বিস্তৃণ বনানী জুড়ে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন

মোঃ কামরুল ইসলাম কামু, পঞ্চগড় প্রতিনিধি- কৃষি উৎপাদনের অপার সম্ভবনাময় জেলা পঞ্চগড়ে আমনধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বিস্তৃন বনানীতে সোনালী রুপের ছোঁয়ায় আমন ধানের ক্ষেত। আর কয়দিন পর শুরু হবে পুরো মাত্রায় ধান কাটা মাড়াই। তবে কিছু আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে পরিমানে কম। এসব ধানের মধ্যে রয়েছে কিছু হাইব্রীড স্বর্না ও ব্রি-৭৫ও ব্রি -৮৭ সহ অন্য কয়েকটি জাত বলে জানায় কৃষি অধিদপ্তর।

প্রতিকূল আবহাওয়া আর সার কীটনাশক নানা রোগ বালাইয়ের পরও আমন ধানের ফলন বাম্পার হয়েছে , কৃষক নিজেই সেই কথা বলছেন।এখন ধান কাটা আর মাড়াই করার অপেক্ষা। তাদের মতে, চলতি নভেম্বর মাসের ১৫ দিনের মধ্যেই শুরু হবে ধান কাটা মাড়াই পুরো মৌসুম। জেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবারে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আমন আবাদ বেশী হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৪৪ হাজার হেক্টর। আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার। গতবার আবাদ হয়েছিল ১ লাখ ৪৪ হাজার হেক্টর।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, প্রতি হেক্টরে ধান থেকে চাল আসবে ৩ দশমিক ৬ মেট্রিক টন। আর ধান আসবে গড় প্রতি ৬ মেট্রিক টন। এদিকে সরজমিন গিয়ে মাঠে ঘাঠে দেখা গেছে বিস্তৃন জমিতে শুধু ধান আর ধান। সবুজের সমারোহ সবুজ বনানী চারদিক। অনেক কৃষক ভোর হলেই তার ধান ক্ষেত দেখতে জমিতে যাচ্ছে। কৃষকের চোখে এখন সোনারী স্বপ্ন। অক্লান্ত পরিশ্রম আর সঞ্চিত অর্থে রোপন করা ধান নিয়ে তাদের পথ চলার স্বপ্ন।

আটোয়ারী উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের গাছবাড়ী এলাকার কৃষক শরিফুল ইসলাম জানান তার রোপন করা ধান ভালো হয়েছে। অগ্রহায়ন মাসে তিনি তার জমির ধান কাটবেন।
দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের ঝান্ঠা পাড়া এলাকার কৃষক লিপন বলেন, আমরা বাম্পার ফলনের আশা নিয়ে আছি। আশা করা যায় ফলন বাম্পারই হবে। তার অভিযোগ কারেন্ট পোকা তাদের অনেকটাই ক্ষতি করেছে। একই ইউনিয়নের তেলীপড়া এলাকার কৃষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ফলন তো ভালো হয়েছে। অল্প কয়েক দিনের মধ্যে ধান কাটা শুরু হবে।

বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকার কৃষক বদিউজ্জামান জানান, এবার শীষ মরে যাওিয়ার প্রবনতা সহ কারেন্ট পোকা, আক্রমন দেখা গেছে। তবে তার পরও আবাদ ভালো হয়েছে। ১০/১২ দিনের মধ্যে ধান কাটা শুরু করবেন বলে জানান তিনি। সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের খোপড়াবান্দি এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান ধানের আবাদ বেশ ভালো হয়েছে। প্রধান পাড়ার নবির উদ্দীন জানান তার জমিতে ধানের ফলনও ভালো হয়েছে।

বৈশ্বিক পরিস্থিতি আর নানা উৎকন্ঠার মধে তাদের স্বপ্ন এখন ধান কেটে ঘরে তোলা। পরিবারের মাঝে নবান্নে উৎসবে পিঠাপুলির স্বাদ নিতে একটু অপেক্ষা। সব মিলিয়ে ঘরে ঘরে বইছে বাঙ্গালীর শত শত বছরের নবান্নের আমেজ। কৃষকদের দাবী তারা যেনো ধানের ন্যায্য মূল্য পায়। সেদিকে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছন। জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুল মতিন, বলেন ইতোমধ্যে আগাম জাতের ধান ব্রি-৭৫ ও ব্রি- ৮৭ সহ বেশ কয়েকটি জাতের ধান কাটাও মাড়াই শুরু করেছে কৃষকরা। তবে তার পরিমান ১০%। তবে তার মতে, এ মাসেই আমন ধান কাটা মাড়াই শুরু হয়ে শেষ হয়ে যাবে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »