• Home
  • আন্তর্জাতিক
  • সার্বিয়ার নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের জয়, হার স্বীকার ভুসিচের
Image

সার্বিয়ার নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের জয়, হার স্বীকার ভুসিচের

সার্বিয়ার রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে নির্বাচনে জয় পেয়েছে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলন। রোববারের ঐতিহাসিক নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুসিচ। এর মধ্য দিয়ে বলকান অঞ্চলের দেশটিতে নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। খবর রয়টার্সের।

জনতাবাদী ও জাতীয়তাবাদী নেতা ভুসিচ ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী কিংবা প্রেসিডেন্ট হিসেবে সার্বিয়ার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন। তবে দুর্নীতি ও ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী শাসনের অভিযোগে প্রায় দুই বছর ধরে চলা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের মুখে গত সেপ্টেম্বরে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন তিনি। ২০২৪ সালে নোভি সাদ শহরে একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর এই আন্দোলন আরো জোরালো হয়।টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ভুসিচ বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে আমরা এই নির্বাচনে হেরে গেছি।শিক্ষার্থীদের জয় হয়েছে। ’

তার এই ঘোষণার পরপরই রাজধানী বেলগ্রেডের রাস্তায় আনন্দ-উল্লাস শুরু হয়। পরে সেখানে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন। গাড়ির হর্ন, মানুষের নাচ আর শিক্ষার্থীদের ‘বিজয়’ ও ‘তার খেলা শেষ’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে রাজপথ।

প্রায় ৬০ লাখ মানুষের দেশ সার্বিয়ায় এই জয়কে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত এপ্রিলে হাঙ্গেরির ভিক্টর অরবানের পরাজয়ের ঘটনার সঙ্গে এর তুলনা করা হচ্ছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার অভাবের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের জন্যও সার্বিয়ার এই ফল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

প্রাথমিক ফলের ভিত্তিতে ভুসিচ জানান, ২৫০ আসনের সংসদে শিক্ষার্থীদের সমর্থিত তালিকা ১৩৫ থেকে ১৪০টি আসন পেতে পারে। তার দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি (এসএনএস) পেতে পারে ১০৫টি আসন।

বেলগ্রেড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাদোমির সাজিচ শিক্ষার্থীদের সদর দপ্তর থেকে বলেন, ‘প্রিয় সার্বিয়া, আজ রাতে জনগণের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে। আজ রাতে আমরা বিজয় উদ্‌যাপন করছি, আগামীকাল ভবিষ্যৎ গড়ব। ’

রোববার ভোটগ্রহণের দিন দেশটির বিভিন্ন শহর ও জনপদের ভোটকেন্দ্রগুলোতে নজিরবিহীন দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এমনকি বেলগ্রেডে ভোট দিতে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় ভুসিচকেও।

জরিপ সংস্থা ও নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটার উপস্থিতি প্রায় ৭০ শতাংশে পৌঁছায়। ১৯৯২ সালে যুগোস্লাভিয়া ভেঙে যাওয়ার পর এটিই দেশটিতে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি।ভোটার কাতারিনা পেত্রোভিচ বলেন, ‘এত বেশি ভোটার উপস্থিতি আমাকে অবাক করেনি। কারণ, গত দুই বছরে বড় ও শক্তিশালী একটি গণআন্দোলন গড়ে উঠেছে। ’

দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকার সময় শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করে আবার প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন ভুসিচ। ক্ষমতাসীন নেতা হিসেবে তার অবস্থান ছিল শক্তিশালী। ফলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অনেকেই এত দ্রুত তার পরাজয় স্বীকারের বিষয়টি কল্পনাও করেননি।ভুসিচের সমর্থকেরা তার সরকারের সময়ে অর্থনীতির আধুনিকায়ন এবং নতুন মহাসড়ক, রেলপথ, স্কুল ও হাসপাতাল নির্মাণের কৃতিত্ব তুলে ধরেন।

পরাজয় স্বীকার করলেও ভুসিচ বলেন, ‘কিছু ব্যবসায়ী, কিছু মানুষ আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন। কিন্তু আমাদের সংগঠন শক্ত অবস্থানে রয়েছে। আমরা ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী এবং বিরোধী দলে থাকার অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। ’

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »