• Home
  • দেশ
  • পঞ্চগড়ে বাৎসরিক মাছের ঘাটতি ৪ হাজার মেট্রিক টন
Image

পঞ্চগড়ে বাৎসরিক মাছের ঘাটতি ৪ হাজার মেট্রিক টন

বাজারে দেশী মাছের সঙ্কট

মোঃ কামরুল ইসলাম কামু পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ে দেশী মাছের সঙ্কট উৎপাদিত মাছেই এখন নির্ভরশীল মানুষ। গেলো মাস খানেক আগে বাজারে কিছুটা দেশী মাছের সরবরাহ ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই অবস্থা আর নেই।জেলায় মাছের চাহিদা পুরণ করছে উৎপাদিত বা চালানি মাছ। রুই, কাতলা, গ্লাস কাপও মৃগেল থেকে শুরু করে সব মাছ এখন বানিজ্যিক ভাবে উৎপাদিত হয়।

তারপরও উৎপাদিত মাছের চাহিদা পূরন হচ্ছে না। জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট মাছের চাহিদা ২৫ হাজার ৮ ৩৯ মেট্রিক টন। উৎপাদিত হয় ২১ হাজার ৭৯৩ মেট্রিক টন। ঘাটতি রয়েছে ৪ হাজার ৪৬ মেট্রিক টন।

জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দেশী মাছের জন্য ৯ টি অভয় আশ্রম রয়েছে। সেগুলোকে দেখভাল করে দেশী মাছের প্রজনন বৃদ্ধি অব্যাহত রাখা হয়েছে। তথ্য মতে, আরও জানা যায় জেলায় ২১ হাজার ৮ শত বানিজ্যিক ভাবে উৎপাদিত মৎস্য খামার বা পুকুর রয়েছে। মোট জমি ৩ হাজার ১৪১ হেক্টর।

এদিকে গত দুমাস আগে জেলার পুকুর জলাশয় খাল বিলের মাছ বাজারে সরবরাহ হয়ে আসছিল। অনেকে দাম কম বেশি হলেও কিনতে আগ্রহী ছিল। কিন্তু গত দশ দিন যাবত পরিস্থিতি পাল্টে গেছে।

পঞ্চগড় বাজারে দেশী সকল ধরনের মাছ সরবরাহ হয়ে আসছিল। এসব মাছের মধ্যে ছিল পুয়া, মওয়া, শিং ,মাগুড়, টেংরা, গচি, টাকি , শৈল , পুটি সহ নানা প্রজাতির মাছ। শুক্রবার গিয়ে দেখা যায়, সেই মাছের সরবরাহ একেবারে বলা যায় শূন্যের ঘরে। তবে বড় মাছের সরবরাহ ছিল স্বাভাবিক। যেমন; রুই ,কাতল,মৃগেল , সিলভার কাপ সহ অন্য প্রজাতির উৎপাদিত মাছ।

এসব মাছ প্রতি কেজি ২৫০ টাকা থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। তবে সামান্য সরবরাহকৃত দেশী মাছের দাম ছিল আকাশ ছোঁয়া। দেখা গেছে, পুয়া, গচি মাছ প্রতি কেজি দর ছিল ৮ শত টাকা থেকে ১ হাজার টাকা।

অন্যদিকে সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ তেমন নেই। যদিও সরবরাহ হয় তা পরিমানে কম। দাম কিছুটা বেশি।চাকুরীজিবী জাকির হোসেন জানান, কয়দিন আগে দেশী মাছ পাওয়া যেতো এখন নেই বললেই চলে।মাছ ব্যবসায়িরা জানান, বৃষ্টির পরে কিছু দেশী মাছের সরবরাহ ছিল। বৃষ্টিপাত না থাকায় দেশী মাছের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এখন ধান ক্ষেতেও পানি নেই বললেও চলে। জলাশয়ে মাছ এখন আর নেই।

এদিকে দেশী মাছের প্রজনন কমে যাওয়ায় এ এলাকায় এখন পুকুরে বানিজ্যিক ভাবে চাষ হচ্ছে মাছ। এর পাশাপাশি জেলার বাইর থেকে আসছে বানিজ্যিক ভাবে উৎপাদিত মাছ। এব্যাপারে জেলা মৎস্য অফিসার ড. কে এম আব্দুল হালিম জানান জেলায় বাৎসরিক মাছের চাহিদার চেয়ে ঘাটতি ৪ হাজার ৪৬ মেট্রিক টন। তবে বাজারে দেশী মাছের সরবরাহের বিষয়ে তিনি বলেন ৯টি অভয় আশ্রমকে আমরা নিয়মিত তদারকি করে থাকি। যেনো দেশী মাছ হারিয়ে না যায়। এসব মাছ নতুন করে প্রজনন সৃষ্টি করে তা সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। বর্ষার পড়ে আমরা এগুলোকে নতুন করে আবারও ঝোপঝাড় দিয়ে রাখি।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »