বিনোদন ডেস্ক: আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা এআই দিয়ে তৈরি ছবি-ভিডিও যেন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে অভনেত্রীদের জন্য। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্বারা তৈরি তাদের আপত্তিকর ভিডিও, ছবি প্রকাশ করা হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে। সম্প্রতি জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর ডিপফেক ভিডিও ছড়ানো হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন এই তারকা।
তিনি জানিয়েছেন, কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা কোনো বিনোদন নয়, এটি স্পষ্টতই অপরাধ। অভিনেত্রী বলেন, ‘যখন এ ধরনের কোনো কনটেন্ট শত শত বা হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করতে থাকে, তখন তা কেবল একজন ব্যক্তির অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা আমাদের সামগ্রিক সমাজের এক অসুস্থ চিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।’
তিনি যোগ করেন, ‘এই পর্যায়ে এসে সেই পুরোনো কথাটাও আর বলতে ইচ্ছে করে না যে, একবার ভাবুন তো, এমনটা যদি আপনার মা কিংবা বোনের সঙ্গে ঘটত! কারণ কাউকে মানুষ হিসেবে সম্মান করতে, তাকে আমাদের পরিবারের সদস্য হতে হবে কেন?’
জীবিকা নির্বাহের নামে অন্যের মানহানি করায় সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, ‘কিছু ভিউ, কিছু লাইক, কিছু শেয়ার, ট্রেন্ডিংয়ে থাকা, হয়তো সেখান থেকে কয়েকটা ডলার আয়। আমি বুঝি, মানুষের জীবনে সংগ্রাম আছে। অনেকের জন্য কনটেন্ট তৈরি করাই এখন জীবিকা নির্বাহের একটি উপায়। সেই বাস্তবতাকে আমি অস্বীকার করতে চাই না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কবে থেকে অন্য একজন মানুষের অপমান আর অসম্মান আমাদের উপার্জনের মাধ্যম হয়ে উঠল?’
সাইবার বুলিং এখন আর শুধু নারী বা পুরুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই উল্লেখ করে মেহজাবীন বলেন, ‘ভিউ ও এনগেজমেন্টের অসুস্থ প্রতিযোগিতা আজ লিঙ্গের সীমারেখাও ছাড়িয়ে গেছে। এর শিকার যে কেউ হতে পারে।’
সবশেষে তিনি আক্ষেপ করে লিখেছেন,‘আমাকে সবচেয়ে বেশি ভাবায় শুধু সেই মানুষটি নয়, যে এমন কিছু তৈরি করছে। বরং সেই অসংখ্য মানুষ, যারা স্বেচ্ছায় সেটি শেয়ার করছে, আলোচনা করছে এবং আরও হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। একজন অপরাধীর অপরাধে অংশ নিয়ে নিজের বিবেকহীনতার পরিচয় দেবেন কি না, ভেবে দেখতে পারেন ।’
এবারই প্রথম নয়, এর আগে গেল বছরের আগস্টে এআই দিয়ে বানানো অভিনেত্রীদের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল।





















