• Home
  • দেশ
  • রিং-কারেন্ট জালের ফাঁদে দেশীয় মাছ, হতাশ মৎস্যজীবীরা
Image

রিং-কারেন্ট জালের ফাঁদে দেশীয় মাছ, হতাশ মৎস্যজীবীরা

পানা টেনেও মিলছে না দেশীয় মাছ

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ নদী নালা খাল বিলে পানি কমে গেলে এলাকার প্রতিটি গ্রামে দল বেধে কচুরি পানা টেনে মাছ মারা উৎসব ছিল গ্রামবাংলার ঐতিহ্য। এছারাও গ্রামে গ্রামে কিছু মৎস্য শিকারী কচুরী পানা টেনে মাছ মেরে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু বর্তমানে চায়নাদুয়ারি রিং জালের অবাধ ও ব্যাপক রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে কাংক্ষিত মাছ না মিলায় হতাশ মৎস্যজীবীরা এবং এ পদ্ধতিতে মাছ ধরা সৌখিন মাছ শিকারীরা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন নদী নালা খাল বিল এলাকা ঘুওে দেখা গেছে, তিস্তার শাখা নদীতে আটকে থাকা কচুরি পানায় কয়েকজন মৎস্যজীবী কচুরিপানা টেনে মাছ ধরছেন। স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানান, আগে নদী খালে বিলে পানা টানলেই শোল, টাকি, কৈ, শিং, মাগুও, খলিশাসহ বিভিন্ন দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। এখন সারাদিন পানা টেনেও এক কেজি মাছ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা জানান, চায়না দুয়ারি রিং ও কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহার, কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার এবং জলাশয়ে অপরিকল্পিত মাছ চাষের ফলে কমে গেছে দেশীয় মাছ। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পানা টেনেও মাছ না পাওয়ায় হতাশ তারা।

মৎস্যজীবী মনজিৎ দাস, হোসেন আলী, সনজিৎ দাস জানান, একসময় তিস্তার শাখা ও মানাস নদীসহ আশপাশের খাল-বিলে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। কারেন্ট ও চায়না দুয়ারি জালের অবাধ ব্যবহার এবং পানিতে কীটনাশক ও রাসায়নিকের প্রভাবে মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র নষ্ট হচ্ছে। দেশী মাছ আহরন করে আমরা যারা জীবন জীবিকা নির্বাহ করতাম তাদের অনেক মৎস্যজীবী পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন।

সহকারী অধ্যাপক সাইফুর রহমান জানান, কালের বিবর্তনে গ্রাম বাংলার পানা টেনে মাছ মারার সেই ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে দেশী মাছ রক্ষায় প্রশাসনের নজরদারীর চরম অভাব। সরকারকে এই পেশার মানুষ গুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে ও দেশীয় মাছ রক্ষায় নদী নালা খাল বিল গুলোকে উন্মুক্ত রাখার ব্যবস্থা করতে হবে, কোন ভাবেই পানি প্রবাহ বন্ধ করে মাছ চাষ এবং রিং ও কারেন্ট জাল ব্যবহার বন্ধ করার ব্যবস্থা করা।

তিসতা ডিগ্রী কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহানাজ শাহ জানান, দেশীয় মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদী-নালা, খাল-বিলের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অবৈধ ও ক্ষতিকর জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান এবং কার্যকর প্রশাসনিক নজরদারি বাড়াতে হবে। এতে একদিকে দেশীয় মাছ রক্ষা পাবে, অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী মৎস্যজীবী স¤প্রদায়ের জীবিকাও টিকে থাকবে। এলাকাবাসী দেশী মাছ রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর নজরদারীর দাবী জানিয়েছেন।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »