• Home
  • আন্তর্জাতিক
  • যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করবে কোরিয়া; পাল্টা হুঁশিয়ারি ইরানের
Image

যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করবে কোরিয়া; পাল্টা হুঁশিয়ারি ইরানের

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান অভিযানে দক্ষিণ কোরিয়া সামরিকভাবে যুক্ত হলে তার পরিণতি ‘মারাত্মক’ হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সিউল সামরিক সহায়তা দিতে পারে এমন খবর সামনে আসার পরপরই এই কূটনৈতিক বার্তা দিল ইরান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, উপসাগরীয় ও হরমুজ প্রণালি অঞ্চলে অন্য কোনো দেশের সামরিক উপস্থিতি বা অভিযানকে ‘আগ্রাসনকারীদের প্রতি সরাসরি সমর্থন’ হিসেবে গণ্য করবে তেহরান।

দুই দেশের বিগত ৬৪ বছরের বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যায় চাপের কাছে নতি স্বীকার করে এই অঞ্চলের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া কোনো দায়িত্বশীল দেশের উচিত হবে না।

তবে এই সরাসরি হুমকির বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক মন্তব্য না করে কেবল জানিয়েছে, তারা উদ্ভূত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।

ইরানের এই হুমকির পেছনে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধারাবাহিক চাপ। আগস্ট থেকেই তিনি সিউলকে এই সংঘাতের ময়দানে পাশে পাওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং প্রাথমিকভাবে তাতে সাড়া না দেওয়ায় ওয়াশিংটন অসন্তোষ প্রকাশ করে। যার জেরে দুই দেশের নির্ধারিত যৌথ সামরিক মহড়াও কাটছাঁট ও বাতিল করে দেয় ওয়াশিংটন।

বর্তমানে কঠিন এক ত্রিপক্ষীয় সংকটে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং। একদিকে নিজেদের মোট আমদানিকৃত তেলের সিংহভাগই হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসে, যা নিশ্চিত করা সিউলের অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য জরুরি। উপরন্তু যুক্তরাষ্ট্র তাদের বড় সামরিক ও কূটনৈতিক মিত্র।

অন্যদিকে ইরানের সরাসরি যুদ্ধসংক্রান্ত হুমকি এবং দেশের ভেতরে বিরোধী দল ও সাধারণ জনগণের তীব্র প্রতিবাদ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কারণ দক্ষিণ কোরিয়ার আইনানুযায়ী বিদেশে কোনো সামরিক দল পাঠাতে হলে পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন, যা পাওয়া এ মুহূর্তে অত্যন্ত কঠিন। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও দেশের ভেতরের রাজনীতি নিয়ে বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে সিউল প্রশাসন।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »