• Home
  • দেশ
  • আদমদীঘিতে পৌনে ১৭শ বস্তা সার জব্দ, ডিলারের জেল-জরিমানা
Image

আদমদীঘিতে পৌনে ১৭শ বস্তা সার জব্দ, ডিলারের জেল-জরিমানা

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি: অতিরিক্ত পরিমাণ সার মজুদ করার মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করার অপরাধে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার সারের বড় মোকাম হিসাবে পরিচিত নসরতপুরে এক সার ডিলারকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাশাপাশি ভ্রাম্যমান আদালত ওই ডিলারের এক হাজার ৬৭৫ বস্তা সার জব্দ এবং দুইটি গুদাম সিলগালা করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার নসরতপুর বাজারে মেসার্স সজিব ট্রেডার্স নামক বিএডিসি ডিলারের গুদামে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সজিব সাহাকে ওই দন্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম। জানা গেছে, নসরতপুর বাজারের মেসার্স সজিব ট্রেডার্স নামক প্রতিষ্ঠানের দুইটি গুদামে ডিএপি, টিএসপি এবং এমওপি সার অতিরিক্ত পরিমাণে মজুদ করে রেখেছিল ডিলার। এই সারগুলোর মধ্যে উপজেলার চাঁপাপুর ইউনিয়নে এসাইনকৃত বিসিআইসি ডিলার মেসার্স মঙ্গল সাহা নামক প্রতিষ্ঠানের অনুকুলে বরাদ্দ করা কিছু পরিমাণ সারও সেখানে মজুত করে রাখা হয়েছিল। এভাবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে এসব সার সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছিল।

বিষয়টি গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানার পর বগুড়া-৩ (আদমদীঘি ও দুপচাঁচিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদারের নির্দেশনায় ও আদমদীঘি উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এসএম জুয়েলের নেতৃত্বে স্থানীয় জনতা সারের গুদাম দুইটি সনাক্ত করে। এরপর ওই সার ব্যবসায়ী (ডিলার) সজিব সাহাকে তার বাড়ি থেকে এনে গুদাম খুলে ওই পরিমান সারের মজুত দেখতে পায়। পরে সংবাদ পেয়ে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী ও অফিসার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুমা বেগম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ঘটনার সত্যতা পায়। পরে সার ব্যবস্থাপনা ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে সজিব সাহাকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা ও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ডের রায় প্রদান করেন। পাশাপাশিন এক হাজার ৬৭৫ বস্তা সার জব্দ করে গুদাম দুইটি সিলগালা করা হয়। একই সাথে জব্দ করা সারগুলো সরকার সরকারি নির্ধারিত দামে কৃষকদের কাছে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুমা বেগম। অভিযান কালে উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ অফিসার সজল ইসলামসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার রয়েছে, সারের কোন সংকট নেই। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কৃষকদের কাছে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির আর কোন সুযোগ নেই। এ বিষয়ে উপজেলার সব সার ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাকে সতর্ক করা হয়েছে। এ ধরণের অভিযান আগামীতে অব্যাহত থাকবে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »