সিরাজদিখান (মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধি: মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে মারধরের অভিযোগে মো. আরাফাত নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার মোঃ আরাফাত(২০) কেয়াইন ইউনিয়নের চালতিপাড়া গ্রামের মোস্তফা আলীর ছেলে। গত শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে সিরাজদিখান থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে বলে জানা গেছে।
থানায় লিখিত অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র মো. নবাব মোল্লা শুলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছুটি শেষে বাসায় আসার পথে কেয়াইন ইউনিয়নের চালতি পাড়া গ্রামের মোঃ আরাফাত,মোঃ ছাদি মল্লিক,মোঃমেহেদীসহ৫/৭জন স্কুলের মেয়েদের উত্তপ্ত করার সময় ওই স্কুলের নবাব মোল্লা (১৫) ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় আরাফাতসহ কয়েকজনের রোষানলে পড়েন। একপর্যায়ে তাকে ধারালো অস্ত্র লোহার রডদিয়ে মারধর করা হয় বলে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে তার পিতা মোঃ মনির মোল্লা।
আহত নবাব মোল্লার পিতা মোঃ মনির মোল্লা বলেন, আমার ছেলে স্কুলের মেয়েদের ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় তাকে মারধর করা হয়েছে। ঘটনার পর আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। সবচেয়ে দুঃখের বিষয়, ছেলের ওপর হামলার ঘটনায় আমরা ন্যায়বিচার চাইতে গেলে আমাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির একটি মামলা করা হয়েছে, যেটিকে আমরা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক বলে মনে করছি। আমরা চাই, পুলিশ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনুক এবং আমার ছেলে ও আমার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুক।
জানা যায় এ ঘটনায় নবাব মোল্লার পরিবার আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে বলে জানা গেছে। পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি স্কুলছাত্র ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। শুলপুর স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় ইভটিজিংসহ কিশোর-তরুণদের নানা ধরনের উৎপাত বন্ধে প্রশাসনের আরও কঠোর ভূমিকা প্রয়োজন। স্কুলছাত্রের ওপর হামলার ঘটনায় এলাকায়ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে শুলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের বলেন,মারামারির সময় আমার স্কুলের দুজন শিক্ষক কাছাকাছি ছিল সেখানে আমার স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র নবাব মোল্লাকে মারধর করা হয়েছে, তবে কি কারনে মারধরের ঘটনা ঘটেছে তা বলতে পারবো না আমি।
এ বিষয়ে সিরাজদিখান থানা অফির্সাস ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আলাউদ্দিন জানায়, স্কুলছাত্রকে মারধরের ঘটনায় তার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মো. আরাফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে আহত ছাত্র ও তার পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।




















