• Home
  • দেশ
  • দেবীগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১২ সদস্যের অনাস্থা প্রস্তাব
Image

দেবীগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১২ সদস্যের অনাস্থা প্রস্তাব

নারী ইউপি সদস্য লাঞ্চিত, দুর্নীতিসহ ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরদিঘী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছে পরিষদের ১২ জন ইউপি সদস্য। দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ আত্মসাতসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এ অনাস্থা আনা হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবটি দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে জমা দেন ইউপি সদস্যরা।ইউপি সদস্যদের দেওয়া লিখিত আবেদনে বলা হয়, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সাধারণ জনগণের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনায় নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টির অভিযোগও তোলা হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, চেয়ারম্যানের সঙ্গে কাজ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এসব কারণে পরিষদের ১২ জন সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে জরুরী সভা করে চেয়ারম্যানের রিুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব গ্রহণ করেন। পরে সভার রেজুলেশনের অনুলিপিসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত দাখিল করা হয়।

এ বিষয়ে সুন্দরদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, কিছুদিন আগে আমাদের এক নারী ইউপি সদস্যকে বিনা দোষে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। ঘটনাটি চেয়ারম্যানের এলাকায় হলেও তিনি এর কোনো সমাধান দিতে পারেননি। একজন ইউপি সদস্য বিনা কারণে লাঞ্ছিত হলেন, অথচ চেয়ারম্যান আমাদের অভিভাবক হিসেবে কোনো দায়িত্ব পালন করলেন না, বিষয়টিকে গুরুত্বও দিলেন না। আজকে একজন ইউপি সদস্য লাঞ্ছিত হয়েছেন, আগামীতে অন্য কোনো ইউপি সদস্য যে লাঞ্ছিত হবেন না, তার নিশ্চয়তা কী ‘ তাহলে আমরা কীভাবে তাঁর ওপর আস্থা রাখব ’।

অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, অভিযোগ যেহেতু করেছি, কিছু প্রমাণ তো আছে। তবে আমি একা অনাস্থা প্রস্তাব দেইনি। যেহেতু সবাই মিলে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছি, অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে কোনো প্রমাণ দেওয়ার প্রয়োজন হলে আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে বসে তথ্য-প্রমাণ দেব।

তবে ইউপি সদস্যদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সুন্দরদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম বলেন, গোটা ইউনিয়ন ঘুরে দেখেন, জনগণের সঙ্গে কথা বলে দেখেন-আমার এক টাকার অনিয়ম-দুর্নীতির কথাও কোথাও শুনবেন না। আমি কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি করি না। ইউনিয়নে আমার একটা ভালো ইমেজ আছে। সামনে নির্বাচন, তাই আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতেই জিন্না মেম্বারের নেতৃত্বে ইউপি সদস্যরা গোপনে বৈঠক করে এই অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছে।

এদিকে সুন্দরদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীৎ সাহা। তিনি বলেন, একটি লিখিত অনাস্থা প্রস্তাব পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »