• Home
  • দেশ
  • দেবীগঞ্জে এক গৃহবধূর উপর অমানষিক নির্যাতন, গ্রেপ্তার -৩
Image

দেবীগঞ্জে এক গৃহবধূর উপর অমানষিক নির্যাতন, গ্রেপ্তার -৩

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে এক গৃহবধূর উপড় অমানষিক নির্যাতনের খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্ততার করেছে পুলিশ।ঘটনাটি ঘটেছে, উপজেলার চর সোনাপোতা এলাকায় বুধবার দিবাগত রাতে।এ ঘটনার পর দেবীগঞ্জ থানায় ভুক্তভোগী মামলা দায়ের করলে পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে সোহেল রানা, সাহেল খাতুন ও সমসের আলী সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন দিবাগত রাতে শয়নকক্ষে ঢুকে কনিকা রায় ওরফে কুলসুম বেগম (৩৯) নামে এক নারী বর্বরোচিত নির্যাতন চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।এ সময় ওই গৃহবধূর দাঁত ভেঙে দেওয়া, বেøড দিয়ে মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং গোপনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়।উপজেলার চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার রাকিব ইসলাম (২৬), সোহেল রানা (২০), সাহেল খাতুন (৪০), সমসের আলী (২৮), আবুল হক (৫০) ও সুজন ইসলাম (১৯) এর নাম উল্লেখ করে ৬ থেকে ৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

দায়েরকৃত মামলা সূত্রে জানা যায়,দেবীগঞ্জ উপজেলার চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ভুক্তভোগী কনিকা রায় ওরফে কুলসুম বেগম গত ১২ জুন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে কুলসুম বেগম নাম ধারণ করেন। ধর্মান্তরিত হওয়ার পর দারগালী নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে একই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন।

অভিযোগ মতে, ধর্ম পরিবর্তন ও বিয়ে মেনে নিতে না পেরে ঘটনার দিন রাতে অভিযুক্ত আসামীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠি ও লোহার রড নিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। প্রথমে গালিগালাজ করে কুলসুমের কাছ থেকে তার ধর্মান্তরিত হওয়া ও বিবাহের হলফনামা কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে এবং তার ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয়।

পরে অভিযুক্ত রাকিব ইসলাম লোহার রড দিয়ে কুলসুমের মুখে আঘাত করলে তার পাটির একটি দাঁত ভেঙে যায়। নির্যাতন চলাকালে সোহেল রানা বেøড দিয়ে ওই নারীর মাথার অর্ধেক চুল কেটে দেয়। এবং কুলসুমের হাত-পা চেপে ধরে রাকিব ইসলাম গোপনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। যন্ত্রণায় ওই নারী চিৎকার করতে থাকলে তার স্বামী বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়।

একই সাথে হামলাকারীরা ঘরে থাকা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের মালামাল ভাঙচুর ও লুটপাট করে। একই সাঙ্গে নগদ ৮৫ হাজার টাকা এবং ৬৬ হাজার টাকা মূল্যের ১১ মণ বাদাম চুরি করে নিয়ে যায়। একই সাঙ্গে ৩টি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে কুলসুমের স্বাক্ষর নেয়। পরে ভুক্তভোগী ও তার স্বামীর চিৎকার শুনে স্থানীয় প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় কুলসুম বেগমকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় উপজেলার চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার রাকিব ইসলাম (২৬), সোহেল রানা (২০), সাহেল খাতুন (৪০), সমসের আলী (২৮), আবুল হক (৫০) ও সুজন ইসলাম (১৯) এর নাম উল্লেখ করে ৬ থেকে ৭ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়।

দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মুসা মিয়া বলেন ‘মামলা দায়েরেরপর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ৩ আসামীকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করার পর এবং আদালতে সোপর্দ হলে আদালত তাদের জেল হাহতে প্রেরণ করেন। অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »