• Home
  • দেশ
  • কাউনিয়ায় চলতি মৌসুমে কৃষকের মুখে হাসি নেই, আছে শুধু কষ্ট
Image

কাউনিয়ায় চলতি মৌসুমে কৃষকের মুখে হাসি নেই, আছে শুধু কষ্ট

পাটের জাগ নিয়ে বিপাকে

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও অর্থনীতির অন্যতম ফসল ‘সোনালি আঁশ’ পাট। রোদ-বৃষ্টিতে কষ্ট করে কৃষকের উৎপাদিত এই ফসল একসময় গ্রামবাংলার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। তবে চলতি মৌসুমে রংপুরের কাউনিয়ায় পাটের ভালো ফলন হলেও পর্যাপ্ত পানির অভাবে জাগ দিতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে শ্রম ও পরিবহন খরচ, অন্যদিকে পাটের মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় ন্যায্য দাম না পাওয়ার শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি খরিপ-১ মৌসুমে কাউনিয়ায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৪০ হেক্টর। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৮৬৫ হেক্টর জমিতে। এ মৌসুমে পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ১০১ বেল।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও পাটগাছ এখনো জমিতে দাঁড়িয়ে আছে। আবার অনেক কৃষক পাট কেটে জমির পাশে, রাস্তার ধারে, খাল-বিল ও জলাশয়ের পাশে স্তূপ করে রেখেছেন। পর্যাপ্ত পানি না থাকায় কেউ কেউ অল্প পানিতে পাটের ওপর মাটি চাপা দিয়ে জাগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আবার অনেক কৃষক কয়েক কিলোমিটার দূরের খাল বা নদীতে পাট নিয়ে গিয়ে জাগ দিচ্ছেন। এতে তাদের অতিরিক্ত পরিবহন ও শ্রম ব্যয় হচ্ছে।

কৃষকেরা জানান, এ বছর বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেকের পাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারপরও যেটুকু পাট উৎপাদন হয়েছে, তা নিয়ে আশায় ছিলেন তারা। কিন্তু জাগ দেওয়ার সময় এসে পানির সংকট দেখা দেওয়ায় সেই আশাও অনেকটা হতাশায় পরিণত হয়েছে। পাট জাগ দিতে না পারায় সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে। পাশাপাশি মানসম্মত আঁশ উৎপাদন নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

উপজেলার গদাই গ্রামের কৃষক আলআমিন বলেন, “পাটের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু পানির অভাবে পাট জাগ দিতে অনেক ভোগান্তি হচ্ছে। দুরে নিয়ে জাগ দিতে হচ্ছে, এতে বাড়তি টাকা খরচ হচ্ছে।”রাজিব গ্রামের কৃষক বাবু হাজি বলেন, “পাট কাটার পর পর্যাপ্ত পানিতে জাগ দিতে পারিনি। পাট ধোয়ার পর আঁশের রং কালচে হয়ে গেছে। সাদা আঁশের তুলনায় এ ধরনের পাটের দাম পাইকাররা কম দিতে চায়।”

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাটের জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি না থাকায় উপজেলার শত শত কৃষক সমস্যায় পড়েছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে দূরের খাল, বিল কিংবা নদীতে পাট নিয়ে যাচ্ছেন। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত লাভ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আকতার বলেন, “এবার আগেই পানি নেমে যাওয়ায় বর্তমানে পাট জাগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কৃষকদের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। কৃষকেরা পাট কেটে অন্য জায়গায় নিয়ে জাগ দিচ্ছেন, এতে তাদের খরচ কিছুটা বেশি হচ্ছে। তবে উপজেলার বিভিন্ন খাল ও ডোবায় পানি রয়েছে। সেখানে কৃষকেরা পাট জাগ দিতে পারবেন।”

স্থানীয় পাটচাষিরা বলছেন, পানির সংকটের পাশাপাশি পাটের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করাও জরুরি। উৎপাদন খরচ ও জাগ দেওয়ার অতিরিক্ত ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাটের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »