হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক নৌজোট গঠনের উদ্যোগ দীর্ঘদিন ধরে চললেও তা এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নৌবাহিনীর নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখাই ওয়াশিংটনের পরিকল্পনা।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ ইউরোপীয় মিত্র যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স শুরুতে এমন একটি নৌ মিশনে নেতৃত্ব দেয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখালেও বর্তমানে তাদের অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। টেকসই যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হলে মিশনে নেতৃত্ব দেয়ার বিষয়ে আগে সম্মতি থাকলেও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ায় দুই দেশই এখন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নৌজোট গঠনের অগ্রগতি থমকে যাওয়ার পেছনে ইউরোপীয় দেশগুলোর সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বড় ভূমিকা রাখছে। তাদের ধারণা, দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এমন কোনো সামরিক সংঘাতে যুক্ত হওয়া ইউরোপের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যে সংঘাত ইউরোপীয় দেশগুলো শুরু করেনি বা সরাসরি সমর্থনও করে না, সেখানে সামরিকভাবে অংশ নেয়ার বিষয়ে সরকারগুলো সতর্ক।
এ ছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছ থেকে প্রস্তাবিত সামরিক উদ্যোগের প্রতি সুস্পষ্ট সমর্থন না পাওয়ায় যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের অনাগ্রহ আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট (আরইউএসআই) ও সেন্টার ফর আমেরিকান প্রগ্রেসের জ্যেষ্ঠ গবেষক এইচ এ হেলিয়ার আলজাজিরাকে বলেন, অন্য কোনো পক্ষের হয়ে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাজ্য বা ফ্রান্সের বিশেষ আগ্রহ নেই। আঞ্চলিক দেশগুলোর পক্ষ থেকে স্পষ্ট আহ্বান না এলে সামরিকভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আরও কম।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন করা হয়। ফলে এই এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা দেখা দিলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা জোট গঠনের চেষ্টা চালালেও ইউরোপীয় মিত্রদের সতর্ক অবস্থানের কারণে উদ্যোগটির ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।
সূত্র: আলজাজিরা


















