মোঃ কামরুল ইসলাম কামু, পঞ্চগড়: সকাল হলেই তারা জীবন সংগ্রামে নেমে পড়ে জল সীমায়। বালি তুলেই যাদের জীবন সংগ্রাম। তাদের খবর কেউ রাখেনা। করতোয়া বিধৌত এলাকা পঞ্চগড়। প্রকৃতির নিয়মে তার সৃষ্টি। সৃষ্টির কূলে যাদের জীবন বৈচিত্র্য। তিনবেলা ভাবার জোটাতে ছুটে চলা নদীর জল রাশিতে। লক্ষাধিক মানুষ এই বালি তোলার সাথে জড়িত। স্ত্রী-সন্তান মা বাবার মুখে অন্ন তুলে দিতে তাদের হার ভাঙ্গা শ্রম দিতে হয়। বালির প্রান্ত সীমায় রোদ-আর বৃষ্টিতে চলে তাদের জীবিকার সন্ধান। তুলতে হয় বালি। শত কষ্ট হলেও বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় ওই নদীতেই নামতে হয় তাদের।
নদীতে পানি থাক আর না থাক বালি তাদের তুলতেই হয়। যৌবনের শুরুতেই পরিবারের জন্য অনেক মানুষ বালি তুলতে ছুটে চলে নদীতে। রোদ আর পরিশ্রম তাদের বাঁধা হতে পারেনা। কারণ সন্ধ্যা হলেই বাড়িতে পরিবার অপেক্ষা করে কখন চাল-ডাল লবন তেল আসবে। আসবে পরিবারের ঔষুধপাতি সহ তরিতরকারি। পেটের ক্ষুধা তো কেউ এসে ভরিয়ে দিবেনা। তাদের তেমন প্রত্যাশাও নেই।
পঞ্চগড়ে বালি পাথর এখন শ্রমজীবির আয়ের এক অন্যতম উৎস। নূড়ি পাথর ও এই বালি এখন এ জেলার অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি। যেখানে ব্যবসায়িদের বিনিয়োগ আছে, শ্রমিকের শুধু শ্রম। এখন বালির ব্যবসা বড় পরিসরে বিস্তার লাভ করেছে। ড্রেজার ও বোমা মেশিন নিষিদ্ধ হওয়ায় পাথর সরবরাহ কমে গেছে।
তবে বালি তুলতে এখন শ্রম দিচ্ছে শ্রমিকরা। সরকারের বালি মহাল ইজারাদাররা এই বালি তোলা হয়ে থাকে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ব্যবসায়িরা বালু নিতে পঞ্চগড়ে আসে। এ জেলার শতাধিক বালি পয়েন্টে লক্ষাধিক মানুষ বালি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
এর সাথে রয়েছে ট্রাক-ট্রাক্টর। স্থানীয় মালিকানায় রয়েছে ট্রাক ও ট্রাক্টর। শত শত ট্রাক-ট্রাক্টর বালি পরিবহনে ব্যবহার হয়। এর ফলে বালি তোলার পাশাপাশি শত শত ট্রাক- ট্রাক্টরের চালক হেলপার জড়িত। সব মিলিয়ে বিরাট কর্মযজ্ঞ চলে নদীর বুকে। সকাল হলেই মাঠ প্রান্তর জুড়ে তাদের পদচারনা। সব মিলিয়ে ব্যবসা-বানিজ্যের পরিসেবার এক বড় উত্থান । প্রতিদিন বালি থেকে কয়েক কোটি টাকা বাজারে চলে আসে। চলে যায় বানিজ্যিক ব্যাংকে। আর্থিক লেনদেনের এক সুবিশাল পটভূমি তেরি হয়েছে, যা হাত বদল হয়। অবহেলিত জেলায় এখন কলকারখানা নেই। ২-১টি ছিল তাও বন্ধ। চা চাষএর সাথে বালি বিক্রি অর্থনীতিকে ধরে রেখেছে।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে বালি তোলার কাজে ব্যস্ত শত শত শ্রমিক। উপজেলার সুলতান পুর এলাকার বালি শ্রমিক নেপাল রায় জানান, আট ঘন্টায় নদীর পানিতে ডুবে বালি তুলে তিনি পান ৫ শত টাকা থেে ক ৬ শত টাকা। একই এলাকার সালমান জানান একই কথা। দেবীগঞ্জের সোনাপোতা এলাকার ট্রাক চালক মমতাজুল জানান তিনি, ছয় বছর যাবত বালি পরিবহন করেন। তার আয় হয় ৪ শত টাকা থেকে ৫ শত টাকা। তবে শুষ্ক মৌসুমে আয় হয় ৫শত থেকে ৬ শত টাকা। নদী থেকে এক ট্র্রাক্টর বালি তুলে এনে ব্যবসায়িকে দিলে তাকে দেওয়া হয় ৩৫০ টাকা।
বোদা উপজেলার বেংহাড়ি ইউনিয়নের সরকার পাড়া এলাকার ট্রাক্টর চালক দ্বীপক ও হাজি পাড়া এলাকার আরিফ হোসেন জানান, সারা দিন বালি পরিবহন করে আয় হয় ৫শত থেকে ৬ শত টাকা। শুষ্ক মৌসুমে একটু বেশী আয় হয় বলে জানান তারা। পঞ্চগড় সদর উপজেলার আমতলা ও মীরগড় এবং তেতুঁলিয়া উপজেলার ভজনপুর, বোদা উপজেলার ফুলতলা এলাকার কয়েকজন শ্রমিক জানান একই কথা। তারা জানান শত শত মানুষ এই বালি তুলে জীবিকা নির্বাহ করেন।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ এলাকার সুলতানপুর পাখুরি তলা এলাকার কয়েকজন বালি ব্যবসায়ি জানান এখন বর্ষাকাল তাই বালির দাম একটু বেশি। দশ চাকার মোটা বালির ট্রাক এখন ১৪ হাজার টাকা। শুষ্ক মৌসুমে ১৩ হাজার ৫শত টাকা। চিকন বালি ১৩ হাজার ৫ শত টাকা। শুষ্ক মৌসুমে চিকন বালি ১২ হাজার ৫শত টাকায় বিক্রি হয়। ৫শত এক হাজার টাকা কম বেশি হয়। বর্ষাকালে দশ চাকার ১০ থেকে ১২টি ট্রাক বালি সরবরাহ হয়ে থাকে। তবে শুষ্ক মৌসুমে তা দ্বিগুন হয়ে যায়।
















