• Home
  • দেশ
  • পুলিশ কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
Image

পুলিশ কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নাজিম হাসান,রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন,বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে পুলিশ কোনো বিশেষ দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয় বরং পুলিশ হবে জনগণের কৃত্রিম বন্ধু। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেছি, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুলিশ বাহিনীকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে একটি আধুনিক, সেবাধর্মী ও মানবিক সংস্থায় রূপান্তর করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। রোববার (২ জুলাই) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের ছয় মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা এমন এক সময় দাঁড়িয়ে আছি যখন দেশ এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আগোচ্ছে। আপনারা এমন এক ব্যাচ যারা এক নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় কর্মজীবনে পদার্পণ করছেন। ​সুতরাং আপনাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। রাষ্ট্রের এই রূপান্তরকালে আপনাদের নিজেদের উপযোগী করে প্রস্তুত করতে হবে। সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আপনাদের আচরণ হতে হবে মানবিক ও আইনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল। ​মনে রাখতে হবে, চেইন অফ কমান্ড, শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও সমন্বিত নেতৃত্বই একটি বাহিনীর শক্তির মূল ভিত্তি। প্রশিক্ষনার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা সমাজে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সৈনিক। আইনের প্রতি অবিচল আস্থা ও দেশের নাগরিকদের প্রতি দায়িত্ব ও জবাবদিহিতাই হবে আপনাদের কর্মের মূল ভিত্তি। মনে রাখবেন, আইনের চোখে সবাই সমান সেটিই হোক কোনো রাজনৈতিক কর্মী বা প্রান্তিক কৃষক, যে-ই হোক। সেবা নিতে এসে কেউ যেন কোনো বৈষম্যের শিকার না হয়, সে বিষয়ে আপনাদের সচেষ্ট থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনমনে স্বস্তি প্রদান ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশ বাহিনীর ভ‚মিকা অগ্রগণ্য। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠানের ন্যায় পুলিশ বাহিনীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ​বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, পুলিশ কোনো বিশেষ দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয় বরং পুলিশ হবে জনগণের কৃত্রিম বন্ধু। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেছি, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুলিশ বাহিনীকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে একটি আধুনিক, সেবাধর্মী ও মানবিক সংস্থায় রূপান্তর করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

সমাপনী কুচকাওয়াজে বিশেষ অতিথি ছিলেন,ভ‚মিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু,পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক জি এম আজিজুর রহমানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রমুখ। সমাপনী কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ড. মো. নূরুল হুদা ভ‚ঁইয়া। তিনি বেস্ট প্রবেশনার ও বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ বিভাগে পুরস্কার অর্জন করেন। এ ছাড়া বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড’ পান শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার আবু নুমান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম এবং বেস্ট শুটার নির্বাচিত হন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার এ বি এম মামুন। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। সমাপনী কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের ৫৮ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার তাঁদের মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। গত ১ ফেব্রæয়ারি শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ ছয় মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়। সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে বৃক্ষরোপণ করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃক্ষরোপণ শেষে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন তিনি।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »