• Home
  • খেলা
  • টানা পাঁচ উইকেট-মেডেন ওভার, গ্রিভসের অলৌকিক বিশ্বরেকর্ড!
Image

টানা পাঁচ উইকেট-মেডেন ওভার, গ্রিভসের অলৌকিক বিশ্বরেকর্ড!

স্পোর্টস ডেস্ক: ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা ক্রিকেট একাডেমিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অবিশ্বাস্য এক বোলিং স্পেলে ইতিহাস গড়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস বোলিং অলরাউন্ডার জাস্টিন গ্রিভস। টানা পাঁচ ওভার মেডেন রেখে প্রতি ওভারেই একটি করে উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে অনন্য বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন তিনি। টেস্টের বল-টু-বল পরিসংখ্যান সংরক্ষণ শুরুর পর এই প্রথম কোনো বোলার টানা পাঁচ ওভারে কোনো রান না দিয়ে প্রতিটি ওভারেই উইকেট নেয়ার কীর্তি গড়লেন।

সোমবার (২৭ জুলাই) তারুবা টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শুরুর সময় পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৯৯ রান। মধ্যাহ্নবিরতির কিছু আগে ৬৩ ওভারে ৪ উইকেটে ২৪৪ রান তুলে বেশ স্বস্তিতেই ছিল সফরকারীরা। অথচ তখন পর্যন্ত গ্রিভসের বোলিং পরিসংখ্যান ছিল ৬ ওভারে ২৭ রান, কোনো উইকেট নেই। এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি।

৬৪তম ওভারে প্রথমে ফিরিয়ে দেন সেঞ্চুরি করা অধিনায়ক শান মাসুদকে। এরপর ৬৬তম ওভারে আমের জামাল, ৬৮তম ওভারে আলী উসমান, ৭০তম ওভারে মোহাম্মদ রিজওয়ান এবং ৭২তম ওভারে মোহাম্মদ আব্বাসকে আউট করেন গ্রিভস। পাঁচটি ওভারই ছিল মেডেন এবং প্রতিটি ওভারেই এসেছে একটি করে উইকেট। মধ্যাহ্নবিরতির আগে ও পরে বিস্তৃত এই দুর্দান্ত স্পেলে পাকিস্তানের শক্ত অবস্থান মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে।

পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৮২ রানে অলআউট হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের চেয়ে তারা পিছিয়ে থাকে ২৯ রানে। গ্রিভস ৫ উইকেট শিকার করে টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেয়ার মাইলফলকও স্পর্শ করেন।

তবে বিস্ময়কর বিষয় ছিল, নিজের পঞ্চম উইকেট নেয়ার পরও তাকে আর বোলিং চালিয়ে যেতে দেয়া হয়নি। ৭২তম ওভারে মোহাম্মদ আব্বাসকে আউট করার পর পরের ওভার করেন কেমার রোচ। এরপর ৭৪তম ওভারে অধিনায়ক রোস্টন চেজ গ্রিভসকে আক্রমণ থেকে সরিয়ে জেইডেন সিলসকে বোলিংয়ে আনেন।

দিনের খেলা শেষে গ্রিভস বলেন, বল কিছুটা সুইং করছিল এবং আমি সেই সুবিধা কাজে লাগিয়েছি। যখনই দলের প্রয়োজন হয়, তখনই কঠিন পরিস্থিতি থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করি আমি। টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবার পাঁচ উইকেট পাওয়ায় তিনি ভীষণ আনন্দিত, তবে ম্যাচে এখনো অনেক কাজ বাকি বলেও মন্তব্য করেন।

পাকিস্তানকে গুটিয়ে দেয়ার পর নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসেও স্বস্তিতে থাকতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাকিস্তানের চার পেসারের দাপটে ৯৩ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। পরে অষ্টম উইকেটে কেমার রোচ ও শামার জোসেফ অবিচ্ছিন্ন ৩৩ রানের জুটি গড়ে দিন শেষ করেন। জোসেফ ২২ ও রোচ ৫ রানে অপরাজিত ছিলেন।

তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ১২৬ রান। তাদের সামগ্রিক লিড দাঁড়িয়েছে ১৫৫ রান। পাকিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ আব্বাস ১৪ রানে ৩ উইকেট নেন। খুররম শাহজাদ পান ২ উইকেট, আর মোহাম্মদ আলী ও আমের জামাল নেন একটি করে উইকেট। পুরো দিন মিলিয়ে দু’দলের ১৪টি উইকেটের পতন হয়েছে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »