স্পোর্টস ডেস্ক: আগস্টে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে ১৩ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড ও নাথান লায়ন। আগামী আগস্টে ডারউইন ও ম্যাকেতে অনুষ্ঠিত হবে এই দুই ম্যাচের সিরিজ।
গত জানুয়ারিতে সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার সর্বশেষ টেস্টে ইনজুরির কারণে খেলতে পারেননি কামিন্স, হ্যাজলউড ও লায়ন। তাদের প্রত্যাবর্তনের ফলে দলে জায়গা হারিয়েছেন মাইকেল নেসার। অ্যাশেজের পাঁচ ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে, বিশেষ করে শেষ দুই টেস্টে দারুণ পারফরম্যান্স করলেও এবার মূল দলে সুযোগ পাননি তিনি। টড মারফি ও ব্রেন্ডান ডগেটকে রাখা হয়েছে স্ট্যান্ডবাই হিসেবে।
বাংলাদেশ সিরিজ দিয়েই আগামী ১১ মাসে অন্তত ২০টি টেস্ট খেলার ব্যস্ত সূচি শুরু হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার। আগামী বছরের অ্যাশেজ পর্যন্ত চলবে এই যাত্রা। এর মধ্যে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠলে আরও একটি ম্যাচ যোগ হতে পারে।
নির্বাচক জর্জ বেইলি বলেন, ‘প্যাট, জশ ও নাথানের প্রত্যাবর্তনে আমরা আনন্দিত। গত কয়েক মাস ধরে তারা চিকিৎসক ও ক্রীড়া বিজ্ঞান দলের সহায়তায় কঠোর পরিশ্রম করে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ফিরেছে। যদিও এটি ১৩ সদস্যের দল, প্রয়োজনে পরিবর্তনের জন্য আরও কয়েকজন ক্রিকেটার প্রস্তুত রয়েছে।’
উসমান খাজা টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ায় ব্যাটিং ক্রমে একটি জায়গা ফাঁকা হয়েছে। তবে নতুন কোনো ব্যাটারকে দলে নেওয়া হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ক্যামেরন গ্রিন পাঁচ নম্বরে খেলবেন। তার পরেই থাকবেন অ্যালেক্স কেরি ও বিউ ওয়েবস্টার।
অতিরিক্ত ব্যাটার ও উইকেটরক্ষক হিসেবে দলে আছেন জশ ইংলিস। গত অ্যাশেজে তিনি দুই টেস্টে বিশেষজ্ঞ ব্যাটার হিসেবে খেলেছিলেন।
উদ্বোধনী জুটিতে আবারও থাকছেন ট্রাভিস হেড ও জ্যাক ওয়েদারাল্ড। অ্যাশেজে এই জুটি চারবার অর্ধশতাধিক রানের জুটি গড়লেও ওয়েদারাল্ডের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স খুব উজ্জ্বল ছিল না। প্রথম ১০ টেস্ট ইনিংসে মাত্র একটি অর্ধশতক করেছেন তিনি। তিন নম্বরে থাকছেন মার্নাস লাবুশেন এবং চার নম্বরে খেলবেন স্টিভেন স্মিথ।
জর্জ বেইলি বলেন, ‘জ্যাক ও ট্রাভিসের জুটি দলকে ভালো ভারসাম্য দিয়েছে। আমরা আশা করছি, টেস্ট ক্রিকেটে সাফল্যের জন্য জ্যাক আরও পরিণত হয়ে উঠবে।’
হ্যাজলউডের প্রত্যাবর্তনের ফলে একাদশে স্কট বোল্যান্ডকে নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে নির্বাচকদের। অ্যাশেজের পাঁচটি টেস্টেই খেলেছিলেন বোল্যান্ড। অন্যদিকে, হ্যাজলউড গত কয়েক বছরে একের পর এক চোটে ভুগেছেন। পেশি, পায়ের গোড়ালি ও পিঠের সমস্যার কারণে একাধিক সিরিজ মিস করতে হয়েছে তাকে।
অন্যদিকে, কামিন্সও গত বছরের জুলাইয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছেন। সেই ম্যাচেই গুরুতর পেশির চোটে পড়েছিলেন লায়ন, যার জন্য অস্ত্রোপচার করতে হয়েছিল।
এদিকে ৩৭ বছর বয়সী স্কট বোল্যান্ড এই সময়ে ইনজুরির কারণে কোনো টেস্ট মিস করেননি। ১৯টি টেস্টে তার শিকার ৮২ উইকেট।
দ্রুতগতির বোলারদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে বেইলি বলেন, ‘পরবর্তী ২১টি টেস্টে ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশন ও পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন একাদশ দেখা যাবে। আগে থেকেই কে কোন ম্যাচ খেলবে বা বিশ্রাম পাবে, তা নির্ধারণ করা হচ্ছে না। ম্যাচের অবস্থা ও কন্ডিশনই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে।’
বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দল: প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), স্কট বোল্যান্ড, অ্যালেক্স কেরি, ক্যামেরন গ্রিন, জশ হ্যাজলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, মার্নাস লাবুশেন, নাথান লায়ন, স্টিভেন স্মিথ, মিচেল স্টার্ক, জেক ওয়েদারাল্ড ও বিউ ওয়েবস্টার।
















