• Home
  • দেশ
  • দৃশ্যমান কাজ নিয়ে প্রশ্ন

    আদমদীঘিতে পাঁচ মাসের ব্যবধানে দুই দফায় একই প্রকল্পে কোটি টাকা বরাদ্দ
Image

দৃশ্যমান কাজ নিয়ে প্রশ্ন

আদমদীঘিতে পাঁচ মাসের ব্যবধানে দুই দফায় একই প্রকল্পে কোটি টাকা বরাদ্দ

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে একই ধরনের উন্নয়ন প্রকল্পে মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে দুই দফায় মোট ১ কোটি টাকা বরাদ্দ নেওয়ার বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বরাদ্দের বিপরীতে প্রকল্প গুলোতে দৃশ্যমান কাজ না থাকায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিষয়টি অধিকত্বর তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।

জানা যায়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা শাখা-২ থেকে জারি করা পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে দেখা যায়, একই অর্থবছরে উপজেলার প্রশাসনিক ভবন, আবাসিক ভবন ও রাস্তা মেরামতের জন্য প্রায় একই ধরনের প্রকল্পে দুই দফায় ৫০ লাখ টাকা করে মোট ১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব আবু রাফা মোহাম্মদ আরিফ স্বাক্ষরিত (স্মারক নং-৪৬.০০.০০০০.০৪৫.২০.০০৩.২৫-৪২৩) প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির “উপজেলা উন্নয়ন সহায়তা” থোক বরাদ্দ থেকে আদমদীঘি উপজেলার ছয়টি প্রকল্পের জন্য মোট ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পগুলো ছিল উপজেলা কৃষি অফিস পর্যন্ত আরসিসি রাস্তা নির্মাণ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের রাস্তা মেরামত, উপজেলা পরিষদের নতুন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সংস্কার এবং যমুনা ও রূপসা আবাসিক ভবনের মেরামত ও সংস্কার।

পরবর্তীতে মাত্র ৫ মাসের ব্যবধানে ২০২৬ সালের ১০ মে একই মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সুলতানা আক্তার স্বাক্ষরিত (স্মারক নং-৪৬.০০.০০০০.০০০.০৪৫.২০.০৩৬৯.২৬-৭৩৬) আরেকটি প্রজ্ঞাপনে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় পুনরায় উপজেলা প্রশাসনিক ভবন (পুরাতন), নতুন প্রশাসনিক ভবনসংলগ্ন রাস্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের প্রবেশ সড়ক, উপজেলা কৃষি অফিসের সামনের রাস্তা এবং যমুনা ও রূপসা আবাসিক ভবনের মেরামতের জন্য আবারও ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুটি প্রজ্ঞাপনের প্রকল্পের তালিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দুইটি প্রকল্প একই অবকাঠামোকে ঘিরেই। ফলে মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে একই ধরনের কাজের জন্য পুনরায় বরাদ্দ দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স¤প্রতি সরেজমিনে উপজেলা পরিষদ এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দৃশ্যমান উন্নয়নমূলক কাজ, নতুন প্রশাসনিক ভবনের সাজসজ্জাসহ অধিকাংশ অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজার দায়িত্বকালে সম্পন্ন হয়েছে। অপরদিকে উপজেলা কৃষি অফিসের সামনের রাস্তা মেরামতকরণের প্রকল্প ২০২৫ সালে উল্লেখ্য থাকলেও দুইবার বরাদ্দ পাস হলেও রাস্তা মেরামতের কোন দৃশ্যমান কাজ দেখা যায়নি।

এছাড়াও প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রূপসা আবাসিক ভবনে উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার কাজের চিহ্ন দেখা যায়নি। ভবনের দেয়ালে শেওলা জমেছে, ভবনটি দীর্ঘদিন অযতেœ পড়ে থাকার চিত্র স্পষ্ট। একইভাবে যমুনা আবাসিক ভবনের নিচতলার বারান্দায় গাছপালা জন্মেছে, ছাদ ও দেয়ালে শেওলা ও পরজীবি উদ্ভিদ দেখা যায়। ভবনের কাঠের জানালার পাল্লা নষ্ট হয়ে পড়েছে এবং চারটি ফ্ল্যাটের মধ্যে মাত্র একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন একটি পরিবার।

এছাড়াও উপজেলা কৃষি অফিসের সামনের রাস্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের প্রবেশ সড়ক এবং নতুন প্রশাসনিক ভবনের সংস্কার কাজের দৃশ্যমান কোনো মেরামত কাজ পরিলক্ষিত হয়নি। পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সংস্কারের পরিবর্তে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ওপর টিনের ছাউনি দিয়ে কক্ষ নির্মাণের কাজ চলতে দেখা গেছে।

এদিকে উপজেলা পরিষদের দক্ষিণ ও পূর্ব পাশের সীমানা প্রাচীর পুন:নির্মাণের কাজ চলমান থাকলেও সংশ্লিষ্ট দুই প্রজ্ঞাপনের কোনো প্রকল্পেই সীমানা প্রাচীর নির্মাণের উল্লেখ নেই।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়েছে কি না এবং একই ধরনের প্রকল্পে দুই দফায় বরাদ্দের যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি প্রকল্প পরিবর্তন করে অন্য কাজে বরাদ্দ ব্যয় করা হয়ে থাকে, তাহলে সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ও সংশোধিত প্রজ্ঞাপন রয়েছে কি না এ বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।

এব্যপারে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম জানান, “দ্বিতীয়বার নতুন প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হলেও মন্ত্রণালয় ভুলক্রমে প্রথম প্রকল্পগুলোর নামেই পুনরায় বরাদ্দ দিয়েছে। পরে উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় দুই বরাদ্দ সমন্বয় করে বাস্তবায়নের জন্য রেজুলেশন ও নতুন কাজের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। বর্তমানে সে অনুযায়ী কাজ চলমান রয়েছে।”

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »