জর্ডান ও কুয়েতে হামলার পর এবার বাহরাইনেও মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার করেছে ইরান। একই সঙ্গে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানের এই পাল্টা হামলা ও ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি সামনে এলো।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আন্দিমেশক শহরের আকাশে শত্রুপক্ষের একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোরে আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির জনসংযোগ দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, আইআরজিসির মহাকাশ বিভাগের নতুন মোতায়েন করা একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, ড্রোনটি শহরের আকাশে ধ্বংস করার আগে সেটিকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আর কোনও বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
এদিকে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, কয়েক ঘণ্টা আগে বাহরাইনে থাকা মার্কিন রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় হামলা চালানো হয়েছে বলে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী জানায়, ‘অপারেশন লাইটনিং’-এর দশম ধাপের অংশ হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, কুয়েতের আলী আল সালেম ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন বাহিনীর রাডার ব্যবস্থা, প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং জ্বালানি ট্যাংক লক্ষ্য করে ওই হামলা চালানো হয়েছে।
পৃথক আরেক দফা হামলায় বাহরাইনের শেখ ইসা ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত যোগাযোগ ব্যবস্থা, সুপার হক রাডার এবং প্যাট্রিয়ট স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী।
এর আগে আইআরজিসিও কুয়েতে হামলার দাবি করে জানায়, আলী আল সালেম বিমানঘাঁটিতে থাকা আগাম সতর্কীকরণ সি-র্যাম রাডার এবং মার্কিন সেনাদের সমাবেশস্থল লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
এর আগে জর্ডানের আজরাক বিমানঘাঁটিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে ইরান। ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা জর্ডানের আজরাক বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সামরিক বাহিনীর যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্থায়ী রাডার ও জ্বালানি ডিপো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
ইরানের দাবি, এই হামলা তাদের ‘সায়েকেহ’ অভিযানের নবম ধাপের অংশ। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ওপর চালানো হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানশাহরের বাম্পুর ব্যারাকে হামলায় সাত সেনা নিহত হওয়ার জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।
অবশ্য জর্ডানের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা পেত্রা জানিয়েছে, দেশটির সেনাবাহিনী ইরান থেকে ছোড়া আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। সামরিক সূত্রের বরাতে সংস্থাটি জানায়, এসব ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার ঘটনায় কোনও হতাহত বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
সূত্রটি আরও জানায়, রয়্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ করছে।
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সংঘাত বন্ধ ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গত মাসে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে এবং প্রায় প্রতিদিনই হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনাও ঘটছে।












