• Home
  • দেশ
  • পলাশবাড়ীতে রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র অর্থপাচার মামলায় গ্রেপ্তার
Image

পলাশবাড়ীতে রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র অর্থপাচার মামলায় গ্রেপ্তার

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: সারাদেশব্যাপী আলোচিত গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় রাম মূর্তি নির্মাণের মূল উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরুণী দাস (৩৬) কে গ্রেপ্তার করেছে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) পুলিশ।

রোববার (১২ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালি মন্দির এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত হরিদাস চন্দ্র ওরফে তরুণী দাস উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের গোপীনাথ চন্দ্র দাসের ছেলে এবং শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালি মন্দির ও মন্দির এলাকায় রামমূর্তি নির্মাণের মূল উদ্যোক্তা।

সোমবার পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ার আলম খান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঢাকার উত্তরা (পশ্চিম) থানার একটি মানি লন্ডারিং মামলায় তাকে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এবং তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, এরপর মন্দির এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।

উল্লেখ্য, এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাবার অভাবের সংসারে ৫ ভাই ও এক বোনের মধ্যে হরিদাস চন্দ্র তরুণী দাস ছিল ৪র্থ। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া শেষে তিনি এলাকা ছেড়ে ভারতে চলে যান। দীর্ঘদিন পর ২০২৪ সালে তিনি এলাকায় (পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামে) ফিরে আসেন। এরপর গ্রামের শ্রী শ্রী কালি মন্দিরের পুরাতন অবকাঠামো পরিবর্তন করে আধুনিকায়নের কাজ করার উদ্যোগ নেন। এ বিষয়ে গ্রামে একটি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে হরিদাসকে সভাপতি এবং বিপিন চন্দ্র দাসকে সাধারণ সম্পাদক করে মন্দির কমিটি গঠন করা হয়।

২০২৫ সালের মে মাসে গ্রামের শ্রী শ্রী কালি মন্দিরের পুরাতন অবকাঠামো পরিবর্তন করে আধুনিকায়নের কাজ শুরু করেন। মন্দিরের নাম পরিবর্তন করে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালি মন্দির নাম করণ করেন। পরবর্তীতে সম্প্রতি মন্দির চত্বরে ৮১ ফুট রাম মূর্তি নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এসব নির্মাণ কাজ ও কাজের অর্থের উৎস নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনায় আসেন হরিদাস চন্দ্র তরুণী দাস। এরপর রাম মূর্তি অপসারন ও তাকে গ্রেপ্তার এবং এসব কাজে অর্থের অনুসন্ধানের দাবিতে পলাশবাড়ী ও গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রসঙ্গত, এরআগে ২০২২ সালের ৭ নভেম্বর জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও র‌্যাব যৌথ অভিযানে রাজধানীর বনানী থেকে হরিদাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের প্রটোকল অফিসারের ভ‚য়া পরিচয়ে বদলি বানিজ্য, টেন্ডারবাজি ও প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে র‌্যাব এক সংবাদ সম্মেলনে গনমাধ্যমকে জানায়, হরিদাস ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময়ে ভারতে যান। সেখানে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে সেখানকার পঞ্চায়েত প্রধানের কাছ থেকে কৌশলে এতিম সনদ সংগ্রহ করেন। পরে স্থানীয় একটি বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন।

বিগত ২১০ সালে তিনি ঢাকার উত্তরা এলাকায় এসে পুরাতন এসি মেরামত ও কেনা বেচার ব্যবসা শুরু করেন। বিয়ে করার জন্য ২০১৯ সালে ধর্মান্তরিত হন। হরিদাস চন্দ্র তরুনী দাস থেকে তিনি তাওহীদ ইসলাম নাম গ্রহণ করেন। এরপর তার শ্বশুর বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া এলাকায় কিছু জমি কেনেন। পাশাপাশি নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিয়ে বদলি বানিজ্য, টেন্ডারবানিজ্য ও প্রতারণা শুরু করেন।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »